কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি মাদরাসায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দেখা দিয়েছে তথ্যবিভ্রাট। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তথ্যের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি এবং ৫ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করে গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠায় ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন— ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ ব্লক-১১-এর বাসিন্দা হাসিম উল্লাহর মেয়ে রাশেদা বেগম (১৩), এফ-১ ব্লকের আবদুস শুকুরের মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩), ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আবদুস শুক্কুরের মেয়ে উম্মে সালমা (১২), ব্লক-৮-এর মোহাম্মদ ইলিয়াছের মেয়ে উমাইচা বিবি (১৩) এবং শামসুল আলমের মেয়ে শাহিদা (১৩)।
ক্যাম্প ইনচার্জ (উপসচিব) মোহাম্মদ আবদুর রউফ স্বাক্ষরিত ঐ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে ক্যাম্পের এ৩ ব্লকে মসজিদুল কুবা নারী মাদরাসা ও হেফজখানায় পাহাড়ধসের ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন মারা যায় ও হাসপাতালে নেওয়ার পর ৪ জনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উদ্ধার কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং এ ঘটনায় আহত হয়ে বর্তমানে ৬ শিক্ষার্থী ক্যাম্পের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার ঘটনার পর পরই বিকেল সাড়ে ৫টায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে ৮ জনের মৃতের তথ্য দিয়েছিলেন, যার অডিও ক্লিপও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।
তথ্যবিভ্রাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই বিষয়টি ক্ল্যারিফাই করা যায়নি, তাই ৮ জনের মৃত্যুর সংখ্যা বলা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা যেটাই হোক এখন পর্যন্ত মৃত ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে এবং এ তথ্যই নিশ্চিত হওয়ার পর ৫নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয় থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্র বলছে, ওই মাদরাসায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। অধিকাংশ বেরিয়ে গেলেও মাদরাসার পাহাড় লাগোয়া কক্ষে হঠাৎ পাহাড়ের মাটি এসে পড়লে শিক্ষার্থীরা আটকা পড়েন এবং এ ঘটনা ঘটে।
ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস বলেন, মাদরাসা ছুটি হওয়ার বাকি ছিল আর কয়েক মিনিট, এর মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়। মাটি ভরাট করে মাদরাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, গত রোববার থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত জেলায় সাড়ে ৫শ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং বর্তমানে সমুদ্রবন্দরে ৩নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি