রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধে ভারতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে দেশটির পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একাধিকবার কথা হলেও এখনো যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট নয়।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “মোদী একজন ভালো মানুষ। কিন্তু তিনি জানতেন, এই বিষয়ে আমি খুশি নই। পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন না হলে যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়াতে পারে।”
এই মন্তব্যের পরও ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সুযোগ নিয়ে রাশিয়ার তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় ভারত। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বাড়তি শুল্ক আরোপের পরও গত নভেম্বরে মার্কিন বাজারে ভারতের রপ্তানি বেড়েছে, যা নয়াদিল্লিকে কিছুটা আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ভারত এখনো রাশিয়ার তেল পুরোপুরি ছাড়তে রাজি নয়। যদিও কৃষিপণ্য আমদানিসহ কিছু খাতে সীমিত ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও তা এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।
গত সপ্তাহে রয়টার্সকে দিল্লির কর্মকর্তারা জানান, তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির সাপ্তাহিক তথ্য প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছে ভারত সরকার। পাশাপাশি তারা আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য সমঝোতার অংশ হিসেবে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল আমদানি দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে মোদীর সঙ্গে তার অন্তত তিনবার ফোনালাপ হয়েছে। তবে এসব আলোচনায় এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এরই মধ্যে গত মাসে দিল্লিতে ভারতের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল এবং মার্কিন উপ-বাণিজ্য প্রতিনিধি রিক সুইটজারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার এই টানাপোড়েন আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল আমদানি ইস্যুতে নয়াদিল্লি যদি স্পষ্ট অবস্থান না নেয়, তাহলে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি বাস্তবে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আমারবাঙলা/এসএবি