মোরেলগঞ্জ উপজেলায় জামায়াত ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। ন্যায়, ইনসাফ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) আসনে জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার ৭নং হোগলাপাশা ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের উদ্যোগে আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে জামায়াতকে বিজয়ী করতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
হোগলাপাশা ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামীর আমির হাফেজ মাওলানা মুফতি মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহাদাৎ হোসাইন, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মাকসুদ আলী খান, পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। জনসভা সঞ্চালনা করেন হোগলাপাশা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি এস এম মুহিবুল্লাহ এমরান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম বলেন, জামায়াত ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলাকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও জনবান্ধব এলাকায় রূপান্তর করা হবে। সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধান, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং দুর্যোগপ্রবণ উপকূলবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, লুটপাট, ঘের দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি বন্ধ করে শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই জামায়াতের লক্ষ্য। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সবার সমর্থন চান তিনি।
নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে মোরেলগঞ্জ উপজেলার পূর্বাঞ্চলের নদীর এপাড়ের ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে সেলিমাবাদ থানা প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি শরণখোলা থেকে ঘষিয়াখালী পর্যন্ত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুন্দরবনে পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন, পানগুছি নদীতে সেতু নির্মাণ ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম ঘোষণা দেন, নির্বাচিত হলে তিনি সরকারি গাড়ি শুল্কমূল্যে গ্রহণ করবেন না এবং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন ভূমিকা রাখবেন।
জনসভা শেষে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
আমারবাঙলা/এসএ