কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের পেকুয়ার চর এলাকায় ১ জানুয়ারী বুধবার বিকেলে বনবিভাগের হঠাৎ অভিযানে দুটি নির্মাণাধীন বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ভাঙা বাড়ি দুটি মোহাম্মদ খলিল ও স্থানীয় দিদারের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।
অভিযানকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একই এলাকায় শতাধিক পাকা ও অবৈধ স্থাপনা থাকা সত্ত্বেও কেন কেবল দুটি নির্মাণাধীন বাড়িকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হলো, তা স্পষ্ট নয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বাড়িগুলোর নির্মাণকাজ চললেও এ সময়ে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নুরুল আখতার নিলয় বলেন, “আজ একটি নির্মাণাধীন অবৈধ বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। পাশের বাড়িটিও পর্যায়ক্রমে ভাঙা হবে। অভিযানের সময় কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযানের ধরন ও সময় নিয়ে তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সব অবৈধ বাড়ি না ভেঙে কয়েকটি নির্দিষ্ট বাড়িতে অভিযান চালানোয় বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে।”
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইন অনুযায়ী ধাপে ধাপে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছে, অভিযানে নিরপেক্ষতার ঘাটতি রয়েছে এবং কিছু নির্দিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অভিযানের পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, বনবিভাগ ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা ও সমান নীতির ভিত্তিতে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
আমারবাঙলা/এনইউআ