মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত কম্বল নিয়ে গভীর রাতে শীতার্তদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান।
পৌষ মাসের তীব্র শীতে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, বিশেষ করে চা-বাগান অধ্যুষিত ও দুর্গম এলাকার দরিদ্র মানুষ যখন খড়কুটো জ্বালিয়ে কোনোমতে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন, ঠিক সেই সময় মানবিক সহায়তা নিয়ে হাজির হন ইউএনও।
বুধবার (৩১শে ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে তিনি কমলগঞ্জ পৌর এলাকার রেলওয়ে স্টেশন, বিভিন্ন বাজার ও ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুমন্ত অসহায় মানুষদের গায়ে নিজের হাতে কম্বল জড়িয়ে দেন। নীরব রাতের আঁধারে সরকারি এই উপহার পেয়ে অনেক শীতার্ত মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ কৃতজ্ঞতার ভাষা হারিয়ে ফেলেন, আবার কেউ চোঁখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
এই মানবিক উদ্যোগের সময় ইউএনও’র সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয় এবং প্রকৃত অসহায়দের কাছেই কম্বল পৌঁছানো সম্ভব হয়।
এ সময় কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহমেদুজ্জামান আলম বলেন,
শীতের এই কঠিন সময়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এমন তৎপরতা সত্যিই প্রশংসনীয়। একজন সরকারি কর্মকর্তার এই মানবিক উদ্যোগ দুস্থ মানুষের মাঝে আশার আলো জ্বালিয়েছে। সমাজের বিত্তবানরাও যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে কেউই আর শীতে এই পরিমাণ কষ্ট পাবে না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান,
তীব্র শীতে সাধারণ মানুষের কষ্ট অনুভব করেই রাতের আঁধারে এই ঝটিকা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। যারা লোকলজ্জার ভয়ে দিনের বেলা সাহায্য নিতে পারেন না কিংবা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান—মূলত তারাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রধান উপদেষ্টার এই উপহার পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি শীতার্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
আমারবাঙলা/এসএবি