ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দীর্ঘ দুই দশক বিরতি দিয়ে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের এক সুসমন্বিত রূপ। আপাতত ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১৮ জন প্রতিমন্ত্রীর নাম রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। দেশ ও বিদেশের রাজনৈতিক মহলে এই মন্ত্রিসভা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও চূড়ান্ত তালিকাটি কেবল হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে।
দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের এক সুসমন্বিত রূপ। অনেক প্রবীণ ও স্থায়ী কমিটির সদস্যকে মন্ত্রিসভায় দেখা নাও যেতে পারে—এমন আভাসও পাওয়া যাচ্ছে।
তারেক রহমান মূলত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রশাসনিক কাঠামো সাজাতে চান। ফলে শুধু রাজনৈতিক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়, কাজের সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রিসভায় বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তত চারজন বিশেষজ্ঞ যুক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় থাকা শরিক দলগুলোর নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চলছে।
ইতোমধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের জন্য সরকারি পরিবহন পুল থেকে ৩৭টি গাড়ি এবং সমসংখ্যক বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, শুরুতে মন্ত্রিসভার আকার ৪০ জনের কাছাকাছি হতে পারে।
মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকায় কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতার নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান এবং মির্জা আব্বাস। তবে দলীয় গুঞ্জন অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল মন্ত্রিত্বের চেয়ে সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনে বেশি আগ্রহী।
গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়—অর্থ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র—এর দায়িত্বে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞদের দেখা যেতে পারে।
তরুণ ও মেধাবী মুখ হিসেবে সানজিদা ইসলাম তুলি এবং মাহদী আমিনের নামও আলোচনায় রয়েছে, যাদের টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
শরিক দলগুলোর তরুণ নেতৃত্বের মধ্যেও রয়েছে সম্ভাবনা। আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি এবং নুরুল হক নুর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের ধারণা।
নতুন সরকারের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হতে পারে সংসদকেন্দ্রিক জবাবদিহিতা। দলীয় বিভিন্ন ফোরামে তারেক রহমান জানিয়েছেন, মন্ত্রীরা সরাসরি সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।
সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও প্রাণবন্ত ও কার্যকর করতে সংসদ উপনেতা হিসেবে অভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় সংসদের ভূমিকা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২০০১ সালের পর এবারই প্রথম বিএনপি একক শক্তিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তবে জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে দলটি।
বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শপথবাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে নতুন মন্ত্রিসভা।
তিন দশক পর দেশ পেতে যাচ্ছে নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং একবিংশ শতাব্দীর নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম এক নতুন সরকার—এমন প্রত্যাশা এখন রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।
আমারবাঙলা/এসএবি