আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।ভোটের দিন রাজধানীর ২ হাজার ১৩১টি কেন্দ্রকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। এসব কেন্দ্রে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আনসার বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। প্রতি কেন্দ্রে ১০ জন আনসার সদস্যের সঙ্গে সহকারী সেকশন কমান্ডার পদমর্যাদার একজন সদস্য অস্ত্রসহ দায়িত্বে থাকবেন। এ ছাড়া প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় থাকবেন আরও একজন সশস্ত্র আনসার সদস্য।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিকল্পনায় ভোটকেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’—এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে তিনজন করে সশস্ত্র পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, আর সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবেন দুজন করে পুলিশ সদস্য। কোনো একটি ভেন্যুতে একাধিক কেন্দ্র থাকলে সেখানে পাঁচজন পুলিশ সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সব পুলিশ সদস্যের কাছেই থাকবে আগ্নেয়াস্ত্র।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনে রাজধানীর পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের বড় অংশ ঢাকায় অবস্থান করবে। ফলে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হচ্ছে—তার বড় একটি মূল্যায়ন নির্ভর করবে ঢাকার ভোটকেন্দ্রগুলোর পরিবেশের ওপর। এ কারণেই রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ মোতায়েন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে ডিএমপির সদর দপ্তরে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় আটটি অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার, ট্রাফিক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং র্যাবের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
ভোটকেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে র্যাব। ডিএমপির প্রতিটি অপরাধ বিভাগে র্যাবের ছয়টি করে দল মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি পুলিশের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক মাঠে সক্রিয় থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা সাত দিন পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্টগার্ড মাঠে দায়িত্ব পালন করবে।
ডিএমপি সূত্রে আরও জানা গেছে, রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট কার্যালয়, গুলশান কূটনৈতিক এলাকা এবং উত্তরা এলাকায় চারটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগে থাকবে আলাদা সাব-কন্ট্রোল রুম, যেখান থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
আমারবাঙলা/এসএবি