বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পর্তুগাল প্রবাসী শরিফুল ইসলাম শাওনের পৈত্রিক সম্পত্তির একটি অংশ দখল করে এক বিঘা ফসলি জমির ধান জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসীর পিতা বাগেরহাট জেলা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শাহানুর রহমান শাহিন বাদী হয়ে স্থানীয় খোকা মুন্সীসহ আটজনের বিরুদ্ধে বাগেরহাট বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সোমবার সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গুলিশাখালী গ্রামের পর্তুগাল প্রবাসী শরিফুল ইসলাম শাওনের পিতা শাহানুর রহমান শাহিনের ক্রয়কৃত ও পৈত্রিক মোট পাঁচ একর সম্পত্তি তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি একই এলাকার সৌদি প্রবাসী মালেক হাওলাদারের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার ছত্রছায়ায় থাকা লোকজন স্থানীয় আবুল কালাম চাপরাশী শাহিনুরের ১৫ শতক জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তাদের দানকৃত কবরস্থানের জমি দখলের উদ্দেশ্যে পর্তুগাল প্রবাসী শরিফুল ইসলাম শাওনের নামে লাগানো সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি তাদের বর্গাকৃত চাষি মিজানুর রহমান বেপারীর চাষাবাদকৃত এক বিঘা জমির আমন ধান জোরপূর্বক কেটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী কৃষক মিজানুর রহমান বেপারী জানান, তাকে নাশকতা মামলায় এবং তার ছেলে ফরিদ বেপারীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে চার মাস জেল হাজতে পাঠানো হয়।
এছাড়াও এলাকার প্রভাবশালী মালেক হাওলাদারের লোকজন নিরীহ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ধান কাটার মৌসুম এলেই তার ছত্রছায়ায় থাকা কতিপয় ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে জমি থেকে জোরপূর্বক ধান কেটে নেওয়াসহ প্রবাসী পরিবারের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসীর পিতা শাহানুর রহমান শাহিন বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী শাহানুর রহমান শাহিন বলেন,
“প্রভাবশালী মালেক হাওলাদারের ছত্রছায়ায় থাকা স্থানীয় কতিপয় লোকজন আমার জমি দখল করে ধান কেটে নিচ্ছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বর্তমানে জেলা শহরে অবস্থান করছি। ভয়ের কারণে কেউ মুখ খুলে কথা বলার সাহস পায় না। ন্যায়বিচারের জন্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে মালেক হাওলাদার বলেন,“শাহানুর রহমান শাহিন ওরফে কালুর সঙ্গে পাঁচ বিঘা জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এক বিঘা জমির ধান কাটার অভিযোগ সঠিক নয়। ওই স্থানে তার কোনো জমি নেই। তারা অনেক জমি বিক্রি করেছে, কিছু জমি এখনো রয়েছে। আমি কাউকে হয়রানি করছি না।”
আমারবাঙলা/এসএ