মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানে ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, লুটকৃত একটি মোটরসাইকেল, নগদ টাকা, মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ৬ নম্বর কাদিপুর ইউনিয়নের মনসুর গ্রামের জুবেল আহমেদ ওরফে জুবলা (৩৩), একই উপজেলার ৫ নম্বর ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেন (২৯), ৪ নম্বর জয়চন্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া কোঁটাগাঁও এলাকার মো. নাজিম মিয়া (২৫) এবং সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নরাই বাজার এলাকার মো. জাকির হোসেন (৩২)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ জানায়, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার ৬ নম্বর কাদিপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের বাগানবাড়ি সংলগ্ন পাকা রাস্তায় মো. লাল মিয়া (৪২) দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে একদল সশস্ত্র ডাকাত তার পথরোধ করে। এ সময় ডাকাতরা লোহার রড ও ধারালো ছুরি দেখিয়ে তাকে মারধর করে এবং তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, নগদ ৫ হাজার ৬০০ টাকা সম্বলিত মানিব্যাগ ও একটি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা একটি সাদা ও মেরুন রঙের মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমল হোসেন এবং কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ডাকাতদের পিছু নেয়। পরে কাদিপুর ইউনিয়নের চুনঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি সাদা ও মেরুন রঙের মাইক্রোবাস আটক করে চারজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি কালো মানিব্যাগসহ নগদ ১ হাজার ৬১০ টাকা, একটি মোটরসাইকেল, চারটি ধারালো ছুরি, একটি লোহার পাইপ, একটি লোহার রড, একটি প্লাস এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস।
কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমল হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অপর এক ডাকাতকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জুবেল আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন ও নাজিম মিয়ার বিরুদ্ধে পূর্বেও ডাকাতি ও চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আমারবাঙলা/এসএ