চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাণিজ্যিক হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কনফারেন্স হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, চসিকের বাণিজ্যিক হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় ব্যবস্থাকে আধুনিক ও ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে বি-ট্র্যাক সলিউশনস লিমিটেড এবং মাইলেজ যৌথভাবে এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করছে। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে কমার্শিয়াল হোল্ডিং করদাতারা ঘরে বসেই সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ উপায়ে ট্যাক্স পরিশোধ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ রিয়েল-টাইম অ্যানালিটিক্স, ডেটা যাচাই এবং স্বয়ংক্রিয় রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে কর আদায়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে পারবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এতদিন কমার্শিয়াল হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল। এই ডিজিটালাইজেশনের ফলে কর নির্ধারণ ও আদায়ে আর কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপির সুযোগ থাকবে না।
পূর্বে ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে বড় অঙ্কের রাজস্ব হারানোর নজির তুলে ধরে মেয়র বলেন,
“যদি এই ব্যবস্থা আগে থাকত, তাহলে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতো না। সেই ক্ষতির দায় বহন করেছে চট্টগ্রামবাসী। সিটি কর্পোরেশনের দৈনন্দিন নগরসেবা—রাস্তা সংস্কার, সড়কবাতি স্থাপন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সবুজায়ন, মশক নিধন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা—সবই মূলত নিজস্ব রাজস্বের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের জরুরি অবকাঠামো মেরামত বা নাগরিক সেবার তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে হোল্ডিং ট্যাক্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস।”
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, পর্যাপ্ত রাজস্ব নিশ্চিত করা গেলে নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ভর্তুকি বৃদ্ধি, আধুনিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং সাধারণ জনগণের জন্য কম খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা কাউকে বাড়তি করের বোঝা দিতে চাই না। আমরা চাই ন্যায্য ও আইনসম্মত কর আদায় হোক। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর ফলে কমার্শিয়াল হোল্ডিংগুলো কে কত ট্যাক্স দেবে—তা স্বচ্ছভাবে নির্ধারিত হবে এবং কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা অপব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।”
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানিসহ রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ।
বি-ট্র্যাক সলিউশনস লিমিটেডের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানভীর সিদ্দিক, হেড অব প্রজেক্ট সাফায়েত আব্দুল্লাহ এবং মাইলেজ-এর পক্ষ থেকে ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবরার রাফিদ চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
আমারবাঙলা/এনইউআ