আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটারদের প্রতি দ্বিমুখী আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি একদিকে যেমন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান, তেমনি জুলাই সনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করার পর এটি ছিল তাঁর প্রথম জনসভা,যেখানে তিনি প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ-ভোট’-এর পক্ষে অবস্থান নিলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি কখনোই সংস্কার প্রশ্নে গোপনীয়তার আশ্রয় নেয়নি। তাঁর ভাষায়, প্রায় আড়াই বছর আগে যখন দেশের ওপর স্বৈরাচার চেপে বসেছিল, তখনই বিএনপি জনগণের সামনে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করলে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সেখানে অংশ নেয় এবং নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার ইস্যুতে কোথাও মতভেদ থাকলেও বিএনপি তা লুকায়নি। জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে কোন প্রস্তাবে দলটি একমত এবং কোন বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে।
গণভোট প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান শহীদদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভোটের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগের মর্যাদা দিতে হলে জুলাই সনদকেও সম্মান জানাতে হবে। সে কারণেই তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান—১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটের দ্বিতীয় ব্যালটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিতে।
রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রংপুরকে অনেকে গরিব অঞ্চল বললেও এটি আসলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।
কৃষক ও নারীদের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে এবং তাদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আমাদের পরিকল্পনা জানালাম, এখন আপনাদের পরিকল্পনা কী? জবাবে জনতা ‘ধানের শীষ’ বলে স্লোগান দিলে তিনি সবাইকে ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ দলের শীর্ষ ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু।
সভা শেষে তারেক রহমান রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনে বিএনপি ও শরিক দলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
এর আগে সন্ধ্যায় বগুড়া থেকে সড়কপথে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বামনপুর গ্রামে যান তারেক রহমান। সেখানে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে সেখান থেকে তিনি জনসভায় যোগ দিতে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন।
আমারবাঙলা/এসএবি