দেশীয় প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় ও পুষ্টিসমৃদ্ধ মাছ চাষের মাধ্যমে গ্রামীণ নারী-পুরুষকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হীড বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাছ চাষিদের প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সংস্থাটির উদ্যোগে বাস্তবায়িত ৬৪টি প্রদর্শনী প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক নারী ও পুরুষ মাছ চাষ করে নিজেদের জীবনমান উন্নয়ন করছেন।
জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মৎস্য খাতে হীড বাংলাদেশের এগ্রো মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইউনিট মোট ৭৪টি কার্যক্রম গ্রহণ করে। এর মধ্যে ৬৪টি প্রদর্শনী মৎস্য চাষিদের জীবিকা উন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের আওতায় মলা, পুটি, ভেটকি, রুইসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষে চাষিদের সহযোগিতা করা হয়।
মাছ চাষের জন্য চুন, মাছের রেনু, ঝাঁকি জাল, ব্লু নেট, রাসায়নিক সার, মাছের খাবার, অক্সিজেন মেশিন, ড্রাম, বাকেট নেট, রেকর্ড বুকসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া মাছের পোনা পরিবহনের জন্য একটি অক্সিজেনেটেড ভ্যান এবং দ্রুত বর্ধনশীল জি-৩ রুই মাছের পাঁচটি প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
দেশীয় প্রজাতির পুষ্টিসমৃদ্ধ মাছ চাষে পাঁচটি, বড় মাছ উৎপাদনে ১২টি, ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষে পাঁচটি, মলা মাছের ব্লুড ব্যাংক স্থাপনে পাঁচটি এবং দেশীয় মাছ চাষে ১০টি প্রদর্শনী করা হয়েছে। পাশাপাশি মৎস্য খামার যান্ত্রিকীকরণ, ফিস ফিড উৎপাদন এবং ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের মাধ্যমে মাছের খাবার তৈরির বিষয়েও প্রদর্শনী করা হয়েছে।
মাছের আইশ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের জন্য তিনজন উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে। তাদের আইশ সংগ্রহের কাজে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমের আওতায় তিনটি ব্যাচে মোট ৬০ জন সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রদান করা হয়।
সুফলভোগী কচিরা রানী, শিল্পী রানী ও রমিন সরকার জানান, হীড বাংলাদেশ তাদের দেশীয় মাছ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে বিনামূল্যে মাছ চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়েছে। বর্তমানে তারা নিজেদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে মাছ বিক্রি করে আয় করছেন।
হীড বাংলাদেশ পাখিমারা শাখার মৎস্য কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে কলাপাড়া উপজেলায় এগ্রো মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইউনিট গ্রামীণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে। মৎস্য খাতের ৭৪টি কার্যক্রমের মধ্যে ৬৪টি প্রদর্শনী ইতোমধ্যে চাষিদের জীবিকার মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও বাজেট অনুযায়ী এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি