মীরসরাই উপজেলার আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক বনভোজন শেষে কক্সবাজার থেকে ফেরার সময় নিখোঁজ হয়েছে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম পূজা রানী দাস (১৫)। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
নিখোঁজ পূজা রানী দাস মীরসরাই উপজেলার ১৩নং মায়ানী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মনু ভূইয়াপাড়া এলাকার অপু দাসের মেয়ে। পরিবারটি বর্তমানে একই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে।
জানা গেছে, গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টার দিকে আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীসহ মোট ১৭৫ জন তিনটি বাসযোগে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। শিক্ষা সফর শেষে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে কক্সবাজার থেকে ফেরার সময় বাসে উঠানোর সময় পূজা রানী দাসকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তিনটি বাসে ৪–৫ জন শিক্ষার্থী না উঠলে তাদের খুঁজে এনে বাসে তোলা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত পূজা রানী দাস নামের এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ থাকলেও তাকে উদ্ধার না করেই শিক্ষকরা কক্সবাজার ত্যাগ করেন। পরে বিষয়টি ট্যুরিস্ট পুলিশকে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে মীরসরাই ফিরে আসেন শিক্ষকরা। এতে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা অপু দাস অভিযোগ করে বলেন,
“আমরা অশিক্ষিত মানুষ। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়েকে পিকনিকে নিয়ে গেছে, আবার সুস্থভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও তাদের। প্রধান শিক্ষক নিজে যাননি, যাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনিও নাকি মাঝপথে নেমে গেছেন। একজন শিক্ষক ফোন করে বললো—‘আপনার মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ এটা কীভাবে সম্ভব? দায় নিতে না পারলে আমার মেয়েকে কেন কক্সবাজার নিয়ে গেল?”
তিনি আরও বলেন, মেয়েকে ফিরে পেতে তিনি বারবার স্কুল প্রাঙ্গণে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে ধরনা দিচ্ছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাচ্ছেন না।
এদিকে স্থানীয় অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলেছেন—অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের নিয়ে এত বড় শিক্ষা সফরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও তদারকি ছিল কি না। স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক দেখভাল করতে না পারলে এমন দূরপাল্লার সফরে নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষা সফরের দায়িত্বে থাকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রতন বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে গিয়ে ফোন কেটে দেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ঝামেলায় আছেন’ বলে ফোন রেখে দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন বলেন,
“বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
আমারবাঙলা/এনইউআ