সমাজে এখনো একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে-যাঁরা বাইরে ঘোরাঘুরি ও সামাজিক আড্ডা এড়িয়ে চলেন, তাঁরা নাকি একাকী কিংবা হতাশ। তবে আধুনিক মনোবিজ্ঞান এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, একাকিত্ব ও নির্জনতা এক নয়। একাকিত্ব মানসিক কষ্টের জন্ম দেয়, কারণ এতে সামাজিক সংযোগের অভাব থাকে। কিন্তু নির্জনতা হলো সচেতনভাবে একা থাকার সিদ্ধান্ত, যা অনেকের জন্য মানসিক প্রশান্তি ও আত্মনবীকরণের উৎস।
যাঁরা ঘরে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন-যাঁদের হোমবডি বলা হয়,তাঁরা সাধারণত ইন্ট্রোভার্ট প্রকৃতির। গবেষণা অনুযায়ী, ইন্ট্রোভার্ট ব্যক্তিরা বাইরের অতিরিক্ত উদ্দীপনা থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং শক্তি ফিরে পেতে একান্ত সময় প্রয়োজন হয়।
মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় রেস্টোরেটিভ নিশ-এমন একটি স্থান, যেখানে মানুষ মানসিকভাবে পুনরুদ্ধার করতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই স্থানটি নিজের ঘর।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে জোমো ( জয় অব মিসিং আউট) ইচ্ছাকৃতভাবে সামাজিক আয়োজন এড়িয়ে যাওয়ার আনন্দ। এটি ফোমোর বিপরীত ধারণা এবং হোমবডিদের ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস ও সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সাধারণত সীমিত সামাজিক পরিসরে বেশি সন্তুষ্ট থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরে সময় কাটানো মানুষের মধ্যে সৃজনশীলতা, আত্মসচেতনতা এবং গভীর সম্পর্ক তৈরির ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
মনোবিজ্ঞানীরা হোমবডিদের ব্যাপারে আগ্রহী কেন
এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, হোমবডিরা কি আসলেই সুখী? অবশ্যই! মনোবিজ্ঞানীরা এখন হোমবডিদের দিকে নতুন করে নজর দিচ্ছেন। তাঁরা দেখেছেন, যাঁরা নিজের ঘরে সময় কাটাতে পছন্দ করেন, তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের বেশ কিছু ইতিবাচক দিক আছে।
এক. সৃজনশীলতা। একা থাকলে মস্তিষ্কের ডিফল্ট মোড চালু হয়। এতে তাঁরা নতুন নতুন আইডিয়া তৈরি করতে পারেন।
দুই. আত্মসচেতনতা। যাঁরা একা সময় কাটান, তাঁরা নিজেকে অন্যদের চেয়ে ভালো চেনেন।
তিন. গভীর সম্পর্ক। হোমবডিদের বন্ধুর সংখ্যা কম হতে পারে, কিন্তু যাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকে, তা হয় অত্যন্ত গভীর।
অতএব, ঘরকুনো হওয়া মানেই মানসিক দুর্বলতা নয়। বরং এটি হতে পারে আত্মজ্ঞান ও মানসিক সুস্থতার একটি স্বতন্ত্র পথ।
তথ্যসূএ: মিডিয়াম, সাইকোলজি টুডে ও ব্রিটিশ জার্নাল অব সাইকোলজি
আমারবাঙলা/এসএ