পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামায় উপজেলা আজিজ নগরে টানা চার দিনের প্রবল বর্ষণের ফলে আজিজ নগর চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বাউন্ডারী ওয়ালসহ মাটি ধসে পড়েছে। এ বর্ষণ অব্যাহত থাকলে এবার যে কোন মুহূর্তে চারতলা বিশিষ্ট কলেজের একাডেমিক ভবনটিও ধসে পড়ার শতভাগ আশঙ্কা রয়েছে। এতে কলেজ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কলেজ ভবনটি রক্ষায় দ্রুত নিরাপত্তা ওয়াল নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বান্দরবান জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) সকালে কলেজ সূত্র জানায়, গত পাঁচদিন থেকে মুষলধারে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। এ বর্ষণ টানা পাঁচদিন বৃষ্টি এক পর্যায়ে বুধবার দুপুর ২টার দিকে অতিবৃষ্টির হলে আচমকা কলেজের উত্তর পাশের ২৫ ফুট বাউন্ডারী ওয়ালসহ মাটি ধসে ৫০ ফুট নিচে পড়ে যায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলছিল। ভবনটির ধসে যাওয়া অংশের নিচে বেশ কয়েকটি বসতঘরও রয়েছে। উল্লেখ্য এ বিদ্যালয় ও কলেজে প্রায় ৫০০ শিক্ষাথী অধ্যয়নরত। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ফ্যাসিলিটি ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ছাত্র অভিবাবক মো. ইলিয়াছ ও বেলাল হোসেন বলেন, কলেজের একাডেমিক ভবনের পাশের বাউন্ডারীসহ মাটি ধসের পর সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি। দ্রুত গাইড ওয়াল নির্মাণ না করলে যেকোনো সময় বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
আজিজ নগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন জানান, কলেজ ভবনের পাশ থেকে মাটি ধসে পড়ার কারণে এখন পুরো চার তলা ভবনটিই ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবনটি যে কোন সময ধসে পড়তে পারে। এতে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।এ বিষয়ে চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু হানিফ বলেন, যখন কলেজ পেছনের ওয়ালসহ মাটি ধসে পড়েছিল, তখন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলছিল। ভাগ্য ভালো ভবন ধসে পড়েনি। আর দুই হাত মাটি ধসে গেলে ভবনও ধসে পড়ত। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপর বিষয়টি বান্দরবান জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি। ভবন রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে, অতি বৃষ্টি হলে যে কোন মুহূর্তে পুরো ভবন ধসে পড়তে পারে। তাই ভবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রসাশনিক সহযোগীতা কামনা কামনা করছেন বলে জানান তিনি।
আমারবাঙলা/এনইউআ