নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সিলগালা করে দেওয়ার পরও অবৈধভাবে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে জানা যায়, বেগমগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীর দিঘীর উত্তর পাড়ে অবস্থিত আল হেরা প্রিন্টিং নামে একটি ফ্যাক্টরিতে অবৈধভাবে পলিথিন উৎপাদনের অভিযোগে নোয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ফ্যাক্টরিটি সিলগালা করে দেয় এবং ওই ফ্যাক্টরির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
এরপর ফ্যাক্টরির মালিক শাহপরান নিজ নামে এস.পি প্রিন্টিং নামে টিসিবির ব্যাগ উৎপাদনের জন্য একটি আবেদন করেন। যেহেতু সিলগালা হওয়া ফ্যাক্টরির মালিক এবং আবেদন করা প্রতিষ্ঠানের মালিক একই ব্যক্তি, সেহেতু কর্তৃপক্ষ অদ্যাবধি অনুমতি দেয়নি।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাক্টরির মালিক শাহপরান কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে তিনি ও কথিত দশজনের একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করে বিনা অনুমতিতে সিলগালা করা ফ্যাক্টরি ও নিজ নামে এস.পি প্রিন্টিং এই দুইটি ফ্যাক্টরিতেই দেদারসে অবৈধ পলিথিন উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন।এ বিষয়ে ফ্যাক্টরির মালিক শাহপরান বলেন, “একটি ফ্যাক্টরিতে অনেক লোক কাজ করত। তাদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হতো। কিন্তু ফ্যাক্টরিটি বন্ধ করে দেওয়ার পর আমরা এস.পি প্রিন্টিং নামের ফ্যাক্টরিতে লোকজনগুলোকে নিয়ে এসেছি। সহসাই ফ্যাক্টরিটি পুরোদমে চালুর জন্য অনুমতি পেয়ে যাব। এ ফ্যাক্টরিতে শুধুমাত্র টিসিবির ব্যাগ উৎপাদন করে স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। ফ্যাক্টরিটিকে অনুমতি দেওয়া হলে আরও শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে। অন্যথায় মালিক ও শ্রমিকরা সবাই বেকার হয়ে যাবে।”
নোয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাউসারা কলি বলেন, “একটি ফ্যাক্টরি সিলগালা করে দেওয়া হয়। এরপর নতুন করে আরেকটি ফ্যাক্টরির জন্য অনুমতির আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু একই ব্যক্তির একটি ফ্যাক্টরি সিলগালা হওয়ার কারণে অন্য একটি নতুন ফ্যাক্টরির ছাড়পত্র দিতে আইনের ফাঁকফোকর রয়েছে। যদি সিলগালা করা ও ছাড়পত্র না পাওয়া ফ্যাক্টরিতে কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বেগমগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীর স্টেট অফিসার হালিম উল্যাহ বলেন, “পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে তালিকা চাওয়ার পর আমরা ফ্যাক্টরিগুলোর তালিকা দিয়েছি। আমরা কোনো কারখানার বিরুদ্ধে মামলা করিনি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কয়েকটি ফ্যাক্টরির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে কেউ বেআইনি কাজ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ পলিথিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সচেতন মহল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আমারবাঙলা/এসএবি