নীলফামারীতে ১,০০০ শয্যার বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী হাসপাতাল: উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত
উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
রোববার ঢাকায় পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত ২০২৫–২৬ অর্থবছরের একনেকের অষ্টম সভায় এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস।
প্রকল্প অনুমোদনের পর একনেক সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নীলফামারীর এই হাসপাতাল কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষ নিজ অঞ্চলে থেকেই মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পাবে।
তিনি বলেন, রংপুর ও ঢাকাভিত্তিক বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। নীলফামারীতে প্রস্তাবিত এই হাসপাতাল সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, হাসপাতালটি চালু হলে শুধু বাংলাদেশের রোগীরাই নয়, নেপাল ও ভূটানসহ আশপাশের দেশগুলোর রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১৭৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং বাকি অর্থ চীনের অনুদান সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চে চীন সফরের সময় প্রধান উপদেষ্টা দেশটিতে একটি আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় চীন সরকার এই প্রকল্পে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী সদর উপজেলায় ১০ তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য ডরমেটরি ও আবাসিক ভবন, পরিচালকের বাসভবন, প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে।
এই হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অনকোলজি ও নিউরোলজিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগে সেবা দেওয়া হবে। আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে জটিল রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আমারবাঙলা/এসএবি