পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দা থেকে এক স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রামের নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দায় রাখা একটি বস্তার ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুটির নাম আয়েশা মনি (১১)। সে রাঙ্গাবালী ছালেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল থেকে আয়েশা মনি নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। শেষ পর্যন্ত নিজ বাড়ির ভেতর থেকে এভাবে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাবাসী হতবাক ও আতঙ্কিত।
নিহত আয়েশা মনি তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। তার বাবা বাবুল প্যাদা দিনমজুরের কাজ করেন। মা আছমতারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করে পরিবারের খরচ বহন করছেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয়রা। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে পুলিশের ধারণা। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে বস্তায় ভরে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আমারবাঙলা/আরআরপি