চট্টগ্রামের রাউজানে একটি হেফজখানার পুকুরে ডুবে মোহাম্মদ রোহান নামে ১০ বছর বয়সী মাদরাসার হেফজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১২টায় রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন তাহেরিয়া সাবিরিয়া মাদ্রাসার পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্বজনসহ উত্তেজিত জনতা মাদরাসায় গিয়ে ভাঙচুর চালায়। এতে মাদরাসার জানালার কাচ, চেয়ার ও কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। পরে রাউজান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে নিবৃত করার পর পরিস্থিতি স্বভাবিক হয়। নিহত শিশু রোহান বায়ালখালি উপজেলার বাসিন্দা এবং উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামিয়া নতুনপাড়ায় বসবাসকারী মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইসমাঈলের ছেলে। ইসমাঈল বলেন, মাদরাসার হুজুর পালিয়ে গেছে। তার অবহেলার জন্য আমি ছেলে হারিয়েছি। আমি তাকে ছাড়বো না। মাদরাসা পরিচালনা কমিটির রবিউল হোসেন সুমন বলেন, শিশুটি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গোসল করতে পুকুরে যায়। সেখানে অসাবধনতাবশত পুকুরে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণ করেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গতকাল রবিবার দুপুর ১২টা ৮ মিনিটে রোহান পুকুরে গোসল করতে যায়। সাঁতার না জানা রোহান পানির নিচে তলিয়ে যায়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তার আগেই শিশুটি মারা যায়। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম গনমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। উত্তেজনা নিবৃত করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তবে এই ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি বলে দাবি করেন তিনি। সিসি টিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহাজান পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত বলেন, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তারপরও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আমারবাঙলা/এনইউআ