ছবি: আমার বাঙলা
সারাদেশ

আগাম তরমুজে আশাবাদী পটুয়াখালীর চাষিরা

ইমরোজ মাহমুদ রুদ্র, রাঙ্গাবালী,পটুয়াখালী

পটুয়াখালী জেলায় এখন তরমুজ চাষকে ঘিরে চলছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দেখা যাচ্ছে আগাম জাতের নানান আকারের তরমুজ। কোথাও ফল পরিপক্ব হয়ে উঠেছে, কোথাও নতুন করে ফল ধরা শুরু হয়েছে, আবার কোনো কোনো ক্ষেতে চারাগাছে ফুটেছে হলুদ ফুল। প্রতিবছরের মতো এবারও তরমুজ চাষকে ঘিরে নতুন আশা নিয়ে মাঠে নেমেছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে তরমুজ উৎপাদন, পরিবহন ও বীজসহ সংশ্লিষ্ট খাতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে কেবল তরমুজ বিক্রিই হতে পারে প্রায় ২০০ কোটি টাকার।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেতেই আগাম ফলন এসেছে। এখন রমজান থাকায় ভালো দামে বিক্রির আশায় আছেন কৃষকেরা। এখন শুধু অভিজ্ঞ কৃষকরাই নন, অনেক শিক্ষিত তরুণও লাভজনক এই চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

পটুয়াখালী সদর উপজেলা, রাঙ্গাবালী উপজেলা, গলাচিপা উপজেলা, দশমিনা উপজেলা, বাউফল উপজেলা ও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি তরমুজ চাষ হয়। বর্তমানে তরমুজ উৎপাদনে দেশের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে পটুয়াখালী। এখানকার তরমুজ যেমন সুস্বাদু, তেমনি আকারেও বড়—অনেক তরমুজের ওজন ২০ থেকে ২২ কেজিরও বেশি হয়।

জেলা কৃষি বিভাগের হিসাবে, গত বছর যেখানে ২৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছিল, সেখানে এ বছর চাষ হচ্ছে প্রায় ৩৪ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ আবাদ বেড়েছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। তবে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তরমুজ চাষের জন্য দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি উপযোগী। নদীবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় বছরের একটি বড় সময় মাঠ পানির নিচে থাকে এবং নদীর পানির ওঠানামায় পলি জমে মাটির উর্বরতা বাড়ে। ফলে তুলনামূলক কম সার ব্যবহার করেও ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে মৌসুমভিত্তিক তরমুজ চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আমানুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগের বছরের তুলনায় এবার তরমুজ চাষের পরিমাণ বেড়েছে। সম্ভাব্য ৩০০ কোটি টাকার বাণিজ্য নিয়ে তারা আশাবাদী। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত কুয়াশায় পাতা পচা রোগ দমনে স্প্রে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত গরমে যাতে তরমুজ ফেটে না যায়, সে বিষয়েও সচেতন করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদের পাশে থেকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

সবকিছু অনুকূলে থাকলে—বিশেষ করে আবহাওয়া ও বাজার পরিস্থিতি ভালো থাকলে—চলতি মৌসুমে পটুয়াখালীর তরমুজ চাষিরা আর্থিকভাবে আরও লাভবান হবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমারবাঙলা/এসএবি

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

পদবঞ্চিত যুবদল নেতৃবৃন্দের হতাশা প্রকাশ।

পদবঞ্চিত যুবদল নেতৃবৃন্দ গতকাল ৭ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ মঙ্গলবার রাজধানীর প্রেসক...

লামায় পাহাড় ধসে শিশুসহ নিহত ৫, আহত ইউপি সদস্য

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাহাড় ধসে ১ শিশুসহ দুই পরিবার...

দক্ষিণ আফ্রিকায় নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নোয়াখালীর এক প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ন...

কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

টানা কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রা...

ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে মদনে আনন্দ মিছিল

নেত্রকোনার মদনে উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের নবগঠিত (আংশিক) কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আ...

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছা

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ...

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত...

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বলে...

দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা জারি

দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং চলমান আলিম পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে...

মেট্রোরেলের কমলাপুর অংশ নিয়ে অনিশ্চয়তা

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণ প্রক...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা