এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো বীজ বপনের কারণে মনোহরদীতে সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। মাসজুড়ে সবুজ গাছ ও হলুদ ফুলে মাঠ জুড়ে এক মনোরম দৃশ্য সৃষ্টি করেছে। এতে কৃষকরা আশাবাদী এবং ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন।
সরিষার ফুল মৌমাছির জন্য অত্যন্ত উপকারী, কারণ এখান থেকে তারা মধু সংগ্রহ করে। সরিষা ফুল পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ায় এবং পরাগায়নেও সাহায্য করে। পাশাপাশি সরিষার ফুল থেকে উৎপন্ন মধু স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর, যা মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়।
সরিষার ভালো ফলনের কারণে কৃষকরা এবার বাম্পার উৎপাদনের আশা করছেন। সরজমিন দেখা যায় মাঠের পর মাঠ জুড়ে সরিষার গাছ, যেখানে হলুদ ফুলের সমারোহ কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। মনোহরদীর সদর, হারুর দিয়া, নারান্দি, সুকুন্দি, রুদ্র দি, চন্দনবাড়ি, নলুয়া, চালাকচর, লেবু তোলা, ডুমন মারা, রামপুর, চরমান্দালিয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় সরিষার ব্যাপক চাষ হয়েছে।
চলতি রবি মৌসুমে মনোহরদী উপজেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৪৮ হেক্টর, যেখানে অর্জিত হয়েছে মোট ৪৫০ হেক্টর। সরিষার গাছ ও আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনে ভালোর সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, ফলে কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন।
উপজেলার কৃষকরা স্থানীয়ভাবে বারি-সরিষা ১৪, বারি-সরিষা ১৭, বিনা-১১ ও টরি-৭ জাতের সরিষার চাষ করেছেন। গত বছর ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা এবার বারি-সরিষা ১৪ বেশি করেছেন। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম হলেও, অন্যান্য বছরের তুলনায় সরিষার চাষে কৃষকেরা এবার বেশি উৎসাহ দেখিয়েছেন।
মনোহরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুনা আক্তার জানান, সরিষা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার জন্য বছরের শুরু থেকে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, প্রনোদনা ও প্রদর্শনী খাতের সার দেওয়া হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সহায়তা এবং পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে কৃষকরা সরিষার চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি চাষের দিকে ঝোঁক দেখাবেন।
মৌসুমের এই ভালো ফলন মনোহরদীর কৃষকদের জন্য উৎসাহের। সরিষার হলুদ হাসি শুধু মাঠকেই নয়, কৃষকের মুখেও আনন্দের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
আমারবাঙলা/এসএবি