রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় হোটেলকর্মী মো. মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেমসংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে।
র্যাব জানায়, নিহত শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার লিলির সঙ্গে অভিযুক্ত মিলনের পূর্বপরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। দুজনের মধ্যে একসঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও হয়েছিল। তবে ঘটনার দিন লিলি সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মিলন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে অভিযুক্ত।
র্যাবের দেওয়া তথ্যে বলা হয়, মিলনের দাবি অনুযায়ী লিলি বিভিন্ন সময় ইঙ্গিতের মাধ্যমে তার প্রতি অনুভূতির কথা প্রকাশ করত। পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু লিলি তা প্রত্যাখ্যান করে মালিকের মেয়ে হয়ে সে কোনো রেস্তোরাঁ কর্মচারীর সঙ্গে যাবে না এবং মন্তব্য করে—‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াও’।
পরে একপর্যায়ে নিজের এমন অনৈতিক প্রস্তাবে সহযোগিতা না করার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় মিলন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সত্যতা উদ্ঘাটনে আরও জিজ্ঞাসাবাদে করা হবে বলে জানিয়েছে র্যাব।
উল্লেখ্য গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকালে দক্ষিণ বনশ্রী মেইন রোডের এল ব্লকের ২/১ নং রোডের প্রীতম ভিলা নামে বাসা থেকে ফাতেমা আক্তার লিলির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ফাতেমা আক্তার বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মা-বাবা, ভাই ও বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকত সে। তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাইয়ে। তার বাবা সজীব মিয়া বনশ্রীতে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন।
এ ঘটনায় রোববার সকালে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় হোটেল কর্মচারী মিলন মল্লিককে প্রধান আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আমারবাঙলা/এসএবি