২০২২ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসি বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকেই সর্বকালের সেরার প্রশ্নে উত্তরটা পেয়ে গেছেন। সেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে কান্নাভেজা বিদায়ে শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাটনও যেন মেসির হাতে দিয়ে আসেন রোনালদো। তবে এরপরও মেসি–রোনালদোকে নিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্ক যেন শেষ হওয়ার নয়।
কাতার বিশ্বকাপের পরও চলমান এ বিতর্ক। দুজনেরই ভক্ত–সমর্থকেরা নিজেদের অবস্থানে অনড়। তবে কাতার বিশ্বকাপের পর এই তিন বছরে পারফরম্যান্স ও সাফল্য বিবেচনায় রোনালদোকে চাপে রেখেছেন মেসি।
২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি আল নাসরে যোগ দেওয়া রোনালদো ভুগছেন শিরোপাখরায়। এক সপ্তাহ আগে অবশ্য তাঁর হাতে উঠতে পারত বড় ট্রফি। কিন্তু সৌদি সুপার কাপের ফাইনালে আল আহলির কাছে টাইব্রেকারে আল নাসর হেরে যাওয়ায় জেতা হয়নি সেই ট্রফি। এর আগে রোনালদো অবশ্য আল নাসরের হয়ে চ্যাম্পিয়নস কাপ জিতেছিলেন, যদিও সেটি ছিল প্রীতি টুর্নামেন্টের ট্রফি। আল নাসর সর্বশেষ সৌদি প্রো লিগের শিরোপা জিতেছে রোনালদো আসার বেশ আগে, ২০১৮-১৯ মৌসুমে।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে রোনালদো অবশ্য খারাপ করেননি। নিয়মিত গোল করেছেন এবং করিয়েছেন। দলকে ম্যাচ জিতিয়েছেন। কিন্তু বড় ম্যাচে একক কৃতিত্বে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেননি। এমন নয় যে আল নাসরে রোনালদোই একমাত্র তারকা। সাদিও মানেসহ একাধিক তারকা ফুটবলার আছেন এই ক্লাবে। অথচ এরপরও ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রোনালদো যোগ দেওয়ার পর কোনো বড় টুর্নামেন্ট জিততে পারেনি আল নাসর।
রোনালদো আসার পর আল নাসর সৌদি সুপার কাপ, কিংস কাপ, সৌদি প্রো লিগ এবং এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টগুলোতে মরিয়া চেষ্টা করেও শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয়েছে। রিয়াদ সিজন কাপ ও রিয়াদ সুপার কাপেও ব্যর্থতা যোগ হবে এ তালিকায়।
এর মধ্যে গতকাল নতুন মৌসুমে মাঠে নেমেছে রোনালদোর দল আল নাসর। ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণের ব্যাপার তো আছেই, সঙ্গে মেসির ক্রমবর্ধমান সাফল্যের ভারও রোনালদোর ওপর প্রতিনিয়ত চাপ বাড়াচ্ছে। তবে কাল রাতে সৌদি লিগে আল তাউওনের বিপক্ষে ৫–০ গোলের জয়ে ভালো শুরু পেয়েছে আল নাসর। গোল পেয়েছেন রোনালদোও।
মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়েছেন রোনালদো আল নাসরে যোগ দেওয়ার প্রায় ছয় মাস পর। আগে কখনো শিরোপা না জেতা মায়ামিকে প্রথম ট্রফি (লিগস কাপ) জেতান মেসি। এরপর জিতিয়েছেন মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) সাপোটার্স শিল্ড ট্রফি।
মায়ামিতে এখন তৃতীয় শিরোপা জয়ের অপেক্ষায় আর্জেন্টাইন মহাতারকা। আগামী সোমবার বাংলাদেশ সময় সকালে লিগস কাপের ফাইনালে সিয়াটল সাউন্ডার্সের মুখোমুখি হবে মায়ামি। ফাইনালটি জিতলে মায়ামির হয়ে আরও একটি শিরোপায় লেখা হবে মেসির নাম। আর মায়ামির হয়ে মেসির শিরোপা জেতা মানেই রোনালদোর চাপ বাড়া। বিশেষ করে দুজনেই ২০২৬ বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করেছেন, এ কারণে বিশ্বকাপের আগে ট্রফি জয় তাঁদের আত্মবিশ্বাসের পালে হাওয়া দিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু দলীয় অর্জনে নয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও রোনালদোকে খানিকটা ম্লান করেছেন মেসি। ইন্টার মায়ামির সাফল্যের বড় চালিকাশক্তি আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। গোল করা থেকে গোল করানো—কোথায় নেই মেসি! শুধু কি তা–ই, এমএলএস, ক্লাব বিশ্বকাপ আর লিগস কাপ মিলিয়ে মেসি এ বছর মায়ামির হয়ে জিতেছেন ১১টি ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার।
রোনালদোর মতো পূর্ণ ফিটনেস নিয়ে খেলতে পারলে পরিসংখ্যান ও অর্জনে মেসি হয়তো আরও ওপরে থাকতে পারতেন। অবশ্য এখন পর্যন্ত যা পেয়েছেন তা একেবারেই কম নয়। এখন মেসির অর্জনের জবাব রোনালদো এবারের মৌসুমে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন কি না, সেটাই দেখার অপেক্ষা।