ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ

কুকুরের ক্ষুধার তাড়নায় কুষ্টিয়ায় ৩৫ জনকে কামড়, আতঙ্কে শিশু-কিশোর

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারাসহ কয়েকটি উপজেলায় কুকুরের দৌরাত্ম্যে পুরো উপজেলা জুড়ে এখন তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে। গতকাল রবিবার সারাদিনে কুকুরের কামড়ে আহত ৩৫ জন ভুক্তভোগী ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এদের মধ্যে শিশু, কিশোর, নারী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় অথবা মার্কেট এলাকায় হামলার শিকার হয়েছেন।

সরেজমিনে ভেড়ামারা সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি গার্লস স্কুল, মধ্যবাজার, রেলবাজার, পৌরসভা-হাসপাতাল সড়ক ও পৌরবাজার এলাকায় দেখা যায়, দলবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক ঝাঁক কুকুরের দল।

পথচারীরা জানান, দিন দিন কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু তাদের খাদ্য না থাকায় দিন দিন ক্ষেপে যাচ্ছে। আগের দিনের মানুষগুলো কুকুরকে ভালোবাসতো, নিজ বাড়ি থেকে খাবার দিত। তা খেয়ে বাড়ি পাহারা দেওয়ার কাজ করত। কিন্তু এখন গ্রামে বা শহরে জমিতে উঠেছে নতুন নতুন ভবন; একপর্যায়ে তাদের থাকার জায়গাটুকুও দখল হয়ে যাচ্ছে। খেতে পাচ্ছে না খাবার, দিন দিন হিংস্র রূপ ধারণ করছে। এতে করে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা সবসময়ই এক ধরনের অজানা আতঙ্কে থাকছেন।

ভেড়ামারা সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী আয়ান বলেন, “প্রায়ই দেখি ১০-১২টি কুকুর একসঙ্গে হাঁটে। হুট করে ঘেউ ঘেউ করলে বা দৌড় দিলে খুব ভয় লাগে। অনেক সময় রাস্তা বদলে অন্য দিক দিয়ে যেতে হয়।”

অভিভাবক জিনাত ফাতেমা বলেন, “ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে পারছি না নিশ্চিন্ত মনে। রাস্তায় এত কুকুর যে, কখন যে কামড়ে দেয় এই ভয়ে থাকি। একদিন তো অন্য বাড়িতে গিয়ে ফোন করার পরে ছেলেকে নিয়ে আসতে হয়েছে। সত্যি এখন কুকুরের আতঙ্কে জীবনযাপন করছি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ বাঁচাতে অবশ্যই কুকুরের প্রয়োজন আছে। তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসার দরকার। প্রয়োজনে তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা বিশেষ প্রয়োজন। বিদেশিরা কুকুরকে ভালোবাসে, এমনকি বাড়িতে রেখে একসঙ্গে খাবার খান। আর আমাদের দেশে কুকুরকে মারার জন্য কিছু ব্যক্তি মরিয়া হয়ে উঠেছে। কোনো প্রাণীকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা ঠিক হবে না। তবে নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। কুকুরের নিয়ন্ত্রণ ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যেখানে টিকাদান, নির্বীজন কর্মসূচি ও জনসচেতনতা পাশাপাশি চলা জরুরি।

আমারবাঙলা/এসএবি

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সরকার ঋণ ও টাকা ছাপানোর ওপর নির্ভর করে না: খসরু

সরকার ঋণ ও টাকা ছাপানোর ওপর নির্ভর না করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে...

ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাবার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ‘গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা...

হামের টিকা রোববার থেকে

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আগামী রোববার থেক...

ওসির হস্তক্ষেপে সংসার রক্ষা নিঝুমের

ফেনীর দাগনভুঁইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমানের মানবি...

৫০ কোটি টাকা ঘুষ অফারকারীর নাম জানতে এমপিকে লীগ্যাল নোটিশ

কুষ্টিয়ায় মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল বন্ধ রাখার জন্য ৫০ কোটি টাকার অফার পেয়েছ...

 মা-বোনের সম্ভ্রমহানিকারীদের রাজনীতি করার অধিকার নেই: বরকত উল্লাহ বুলু

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. বরকত উল্লাহ বুলু বল...

সোনারগাঁয়ে অধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ।  

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী শান্তিনগর এলাকায় আধিপত্য বি...

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে মাসব্যাপী চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব ক্যাম্পেইন শুরু

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র আওতাধীন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক...

দেশে অবৈধভাবে মজুতকৃত জ্বালানি ৪ লাখ লিটার

সারা দেশে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অভিযানে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৩ লাখ ৭২ হাজা...

দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান চীনের

মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন। আগামী দুই থেকে তিন সপ্...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা