মাদারীপুর সদর উপজেলাধীন কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায়, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন ও নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি জব্দ হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্কুল ফিডিং প্রজেক্টের ডিরেক্টর, যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন উর রশীদ মাদারীপুরে এসে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতালে অসুস্থ্য শিক্ষার্থীদের দেখতে যান। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয় নিয়ে মিটিং করেন।
জানা গেছে, কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সামান্তা ট্রেডার্সের মাধ্যমে ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে কলা, পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করা হয়। খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণ পরেই উপজেলার ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে অসুস্থ ১৭ জন শিক্ষার্থীকে দ্রæত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসা শেষে ১১ জনকে রাতে ছেড়ে দেয়া হয়। বাকি ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসনের তদারকি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হাউসদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে যান এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আর রিপন। এসময় সেখান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সদার থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের দেখতে যান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ মর্জিনা আক্তার।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ মর্জিনা আক্তার বলেন, কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর শুনে আমি সাথে সাথে হাউসদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পাঠাই। এসময় সেখান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি জব্দ করা হয়। অন্য আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হলে সেই শিশু শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে দেখতে যাই। শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে। প্রজেক্ট ডিরেক্টর, যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন উর রশীদ স্যার বৃহস্পতিবার মাদারীপুরে আসেন এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
আমার বাঙলা/আরএ