কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাদকাসক্তির এক চরম ও নৃশংস রূপ দেখল এলাকাবাসী। চকরিয়া পৌরসভায় দোকানে বসতে নিষেধ করায় ও তুচ্ছ পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের জন্মদাতা পা-হারা প্রতিবন্ধী পিতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক মাদকাসক্ত পুত্র।
আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীর কুম বাজার সংলগ্ন নিজপানখালী এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। নিহত খলিলুর রহমান (৭৫) ওই এলাকার বাসিন্দা। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণ
পরিবার ও এলাকাবাসী বলেন, নিহত খলিলুর রহমান জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এর আগে দুপুরে অভিযুক্ত যুবক মোহাম্মদ মিনার (২৮)-কে তার পিতা পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে (দোকানে) বসতে নিষেধ করেন। পিতা তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তুমি নেশা করো, তাই তোমাকে দোকানে বসতে দেওয়া যাবে না।
পিতার এই নিষেধাজ্ঞায় ক্ষিপ্ত হয়ে মিনার ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী পিতার ওপর হামলা চালায়। সে পিতার মাথায়, গালে ও শরীরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে এবং একপর্যায়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে পিতার একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন খলিলুর রহমানকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
পূর্বেও জেল খেটেছিল ঘাতক ছেলে
নিহতের পরিবার ও মায়ের সূত্রে জানা গেছে, ঘাতক মিনার দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর মাদকাসক্ত এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন আচরণ করে আসছিল। মাদকের টাকার জন্য সে প্রায়ই পরিবারের ওপর চড়াও হতো। ছেলের অনিয়ন্ত্রিত অত্যাচার ও ক্রমাগত হামলার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ইতিপূর্বে পিতা খলিলুর রহমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত মিনারকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করে। কিন্তু কয়েক মাস কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে বের হয়েই সে পুনরায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে এবং আজ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। নিহতের অন্যান্য ভাইয়েরা পৃথকভাবে বসবাস করেন বলে জানা গেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয় জনতা ঘাতক মিনারকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
অভিযুক্ত মাদকাসক্ত ছেলে মোহাম্মদ মিনার বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই বর্বরোচিত ঘটনার পর চকরিয়া ও পেকুয়া অঞ্চলের সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইদানীং তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশ আশঙ্কাজনকভাবে মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। এই মাদক সিন্ডিকেট ও মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যদি দ্রুত কঠোর এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই অঞ্চলের তরুণ প্রজন্ম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে এবং এমন সামাজিক বিপর্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আমারবাঙলা/এনইউআ