উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন এখন শুধু একটি এলাকার সীমাবদ্ধ আলোচনা নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতি, পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই বাস্তবতায় পটুয়াখালী-৪ আসনকে ঘিরে তিনটি বিষয় সামনে এসেছে—কার্যকর প্রতিনিধিত্ব, টেকসই উন্নয়ন এবং মানুষের প্রত্যাশা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর এবিএম মোশারফ হোসেন ব্যক্তিগত উদযাপনের পথে না হেঁটে দায়িত্বশীল অবস্থান নিয়েছেন। আনন্দ মিছিল পরিহার করে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও জনস্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। অনেকের মতে, এটি পরিণত ও ইতিবাচক রাজনৈতিক নেতৃত্বের বার্তা বহন করে।
নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তুতির আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকেও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পটুয়াখালী-৪ থেকে নির্বাচিত মোশারফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের মধ্যে জোরালো হয়েছে।
ফল ঘোষণার পর কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। তবে দলীয় বিভাজনের চেয়ে উন্নয়ন প্রত্যাশাই ছিল বেশি উচ্চারিত। বিভিন্ন মতের ভোটাররাও এলাকার স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
কৌশলগতভাবে পটুয়াখালী-৪ আসনের গুরুত্ব অনেক। এখানে রয়েছে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, গুরুত্বপূর্ণ মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামো এবং সাবমেরিন কেবল সংযোগ সুবিধা। সব মিলিয়ে এই অঞ্চল অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের বড় সম্ভাবনা ধারণ করছে।
রাঙাবালী সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ-এর শিক্ষার্থী ইমরান মাহমুদ সম্রাট বলেন, “উপকূলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা ও বঞ্চনার শিকার।অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি। এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এ অঞ্চল থেকে একজন মন্ত্রী অত্যন্ত জরুরি।
আমারবাঙলা/আরএ