কক্সবাজারে পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়, জোরপূর্বক ‘ছাড়া’ বা চাঁদা দাবি এবং বিভিন্ন সেবায় হয়রানির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি, দালাল চক্র কিংবা পরিবহন ও পর্যটন–সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা অবৈধ অর্থ দাবি করলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, পরিবহন, ভাড়া করা যানবাহন কিংবা সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক অন্যান্য সেবায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, প্রতারণা বা হয়রানির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও জরিমানা করা হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ছুটির দিন ও পর্যটন মৌসুমে দালাল ও অসাধু চক্রের তৎপরতা রোধে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের রিজিয়ন প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আপেল মাহমুদ বলেন, “কক্সবাজারে আগত দেশি–বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। কোনো অসাধু সিন্ডিকেট বা ব্যক্তি পর্যটকদের হয়রানি করলে তাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, মাদক ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের উদ্দেশে অনুরোধ জানিয়েছে, কোনো ধরনের হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া দাবি বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যের সহায়তা নিতে অথবা হটলাইনে যোগাযোগ করতে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের ফলে কক্সবাজারে পর্যটকবান্ধব পরিবেশ আরও সুসংহত হবে এবং দেশের প্রধান সমুদ্রসৈকত হিসেবে এর সুনাম অক্ষুণ্ন থাকবে।