মৌলভীবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী ঘোষণার পর তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার তিনটি আসনেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচনী সংকটে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মনোনয়নবঞ্চিতদের অনুসারীরা বিভিন্ন স্থানে পুনর্বিবেচনার দাবিতে সভা-সমাবেশ ও শোডাউন করছেন। বেশ কয়েকজন বঞ্চিত নেতা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, জেলার চারটি আসনে বিএনপির অন্তত ১২ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। চলতি মাসের ৩ নভেম্বর মহাসচিব চারটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। তখন মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা প্রকাশ্যে তেমন প্রতিক্রিয়া না জানালেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে ফুঁসছেন।
মৌলভীবাজার–১ (বড়লেখা–জুড়ী)
এই আসনে দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাসির উদ্দিন মিঠু মনোনয়ন পেয়েছেন। দুটি উপজেলায় রয়েছে ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোনীত প্রার্থী জুড়ী উপজেলার (৬ ইউনিয়ন) বাসিন্দা হলেও মনোনয়নবঞ্চিত কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু বড়লেখা উপজেলার (১০ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা) মানুষ।
বড়লেখায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১১ হাজার ৬৬৮ এবং জুড়ীতে ১ লাখ ২২ হাজার ২৭২। অন্যদিকে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বড়লেখার বাসিন্দা। ফলে এলাকা-ভিত্তিক ভোটের সমীকরণে বিএনপি প্রার্থী বিপাকে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া)
এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপি নেতা ও আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এএনএম আবেদ রাজা, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী শওকতুল ইসলাম শকু, এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী ড. সাইফুল ইসলাম।
দল শওকতুল ইসলাম শকুকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
তবে আওয়ামী লীগ আমলে পুরো সময় আন্দোলনে সক্রিয় থাকা আবেদ রাজার অনুসারীরা মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে ৯ নভেম্বর সমাবেশ ও মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন। নেতাকর্মীদের এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে পারেন জামায়াতের প্রার্থী, জেলা জামায়াতের আমির প্রকৌশলী সাহেদ আলী।
মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ)
এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার একাধিকবারের মেয়র ও জেলা বিএনপি নেতা মহসিন মিয়া মধু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান, এবং জেলা বিএনপির সদস্য মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী।
দল মুজিবুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে।
এদিকে মনোনয়ন না পেলেও মাঠে আছেন মহসিন মিয়া মধু। তিনি বলেন,
‘দলীয় মনোনয়ন পেলাম কি-না পেলাম, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছি, থাকব।’
ফলে এ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বিভাজন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর)
এ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।
এ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর সম্ভাবনা নেই বলেই জানা যায়। তবে মনোনয়ন পাওয়ার পর এখনো জেলা কমিটির নেতাদের নিয়ে কোনো মতবিনিময় সভা না করায় অনেক নেতা নাখোশ হয়ে উঠেছেন।
আমারবাঙলা/এসএ