আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হচ্ছে বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নির্বাচন কমিশন, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন উদ্যোগ।
দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এবারই সর্বাধিক সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নামছে। প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন বডি-ওর্ন ক্যামেরা সংযুক্ত পুলিশ সদস্যরা, পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারিতে থাকবে ড্রোন।
নিরাপত্তায় কঠোর প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯ লাখ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে পুলিশ ও আনসারের সদস্য থাকবেন ৭ লাখের বেশি। সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১ লাখ সদস্যের পাশাপাশি নৌ ও বিমানবাহিনীও বিশেষ দায়িত্বে থাকবে। বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরাও মাঠে থাকবেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কারচুপি ও সহিংসতা ঠেকাতে ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। এছাড়া পাঁচ শতাধিক ড্রোন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে। ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে ২,১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।
ভোটের সময় ও অংশগ্রহণ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
দেশে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২,০২৮ জন প্রার্থী, যার মধ্যে ২৭৩ জন স্বতন্ত্র। দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। বিদেশে অবস্থানরত দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।
পর্যবেক্ষণ ও গণমাধ্যম উপস্থিতি
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকছেন ৪৫,৩৩০ জন দেশীয় এবং প্রায় ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। নিবন্ধিত সাংবাদিকের সংখ্যা প্রায় ৯,৭০০ জন, যাদের মধ্যে ১৫৬ জন বিদেশি প্রতিনিধি।
নির্বাচন: উৎসব না উদ্বেগ?
বাংলাদেশে নির্বাচন একদিকে গণতান্ত্রিক উৎসব হিসেবে বিবেচিত হলেও অতীত অভিজ্ঞতায় সংঘাত ও সহিংসতার নজিরও রয়েছে। দেশের ১২টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে মাত্র চারটিতে তুলনামূলকভাবে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় ছিল। বাকি নির্বাচনগুলোতে নানা বিতর্ক ও সহিংসতার অভিযোগ ওঠে।
এবারের বাড়তি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।
আমারবাঙলা/এসএবি