পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার লক্ষ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ আগামীকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে টানা নয় মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চলতি পর্যটন মৌসুমের শেষ দিন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন জানান, শনিবারই শেষবারের মতো সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলো পর্যটকদের নিয়ে দ্বীপে যাবে। রোববার থেকে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকবে না। ভবিষ্যতে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সে অনুযায়ী নতুন নির্দেশনা জারি করা হবে।
সরকারি নির্দেশনায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
-
সৈকতে রাতের বেলায় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা
-
উচ্চ শব্দ ও বারবিকিউ পার্টি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
-
কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রি নিষিদ্ধ
-
সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক ও ঝিনুকসহ কোনো প্রাণীর ক্ষতি করা যাবে না
-
সৈকতে মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ
-
পলিথিনসহ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ
পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার জন্যও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পর্যটন কার্যক্রম দীর্ঘদিনের জন্য বন্ধ থাকায় দ্বীপের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন,
“মৌসুমের সময়সীমা হঠাৎ কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী লোকসানে পড়েছেন। অনেকে বিনিয়োগের টাকাও তুলতে পারেননি। পর্যটন বন্ধ থাকলে আগামী কয়েক মাস দ্বীপের মানুষের কষ্ট চরমে পৌঁছাবে।”
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন,
“দ্বীপের অধিকাংশ মানুষ পর্যটননির্ভর। হঠাৎ করে দীর্ঘ বিরতির ফলে স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা মারাত্মক সংকটে পড়বে। সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো গেলে মানুষের জন্য টিকে থাকা সহজ হতো।”
পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও স্থানীয়দের দাবি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দ্বীপবাসীর জীবন-জীবিকার দিকটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। পর্যটন ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমারবাঙলা/এনইউআ