ইরানের চলমান বিক্ষোভকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সহিংস করে তুলেছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য কোনো শক্তির সরাসরি সামরিক অভিযানের আশঙ্কা তিনি করছেন না।
শুক্রবার লেবানন সফরে গিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছে যে তারা ইরানের বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করেছে। তাঁর দাবি, এই হস্তক্ষেপের কারণেই জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ধীরে ধীরে সহিংস রূপ নিয়েছে।
আরাগচি বলেন, “জনগণের দাবিগুলো ছিল অর্থনৈতিক এবং শান্তিপূর্ণ। কিন্তু বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে গেছে।”
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়ন, লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। ওই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে।
এরপর অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে। দিন যত গড়িয়েছে, বিক্ষোভের তীব্রতাও তত বেড়েছে। বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনে দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ দমাতে রাজধানী তেহরানসহ দেশের প্রায় সব শহরে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। পাশাপাশি দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চারবার ইরানকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। প্রতিবারই তিনি বলেছেন, ইরানি সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমন-পীড়ন চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালাতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের আন্দোলন নিয়ে এখনো কোনো বক্তব্য না দিলেও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ প্রকাশ্যে ইরানের জনগণের বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছে।
ট্রাম্পের হুমকি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আরাগচি বলেন, “ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা খুবই কম। অতীতেও তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু সেগুলো ব্যর্থ হয়েছে।”
সূত্র: এএফপি