সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা নৈতিক স্খলনের অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগপর্যন্ত দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারকে সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)৷ সার্বিক ঘটনা, তুষারের লিখিত জবাব ও আলামত বিশ্লেষণ করার পর এনসিপি তাঁকে সাংগঠনিক সব কর্মকাণ্ডে পুনর্বহাল করেছে। দুই মাস পর দলে ফিরল সারোয়ার।
শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে এনসিপি। গত ১৭ জুন এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষারের সঙ্গে এক নারীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়৷ বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে পরদিন তুষারকে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলেছিল দলটি। পাশাপাশি বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগপর্যন্ত তুষারকে এনসিপির সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতেও বলা হয়৷
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহউদ্দিন সিফাতের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বরাবর নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল৷ সারোয়ার তুষার দপ্তরের মাধ্যমে দলের আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, রাজনৈতিক পর্ষদ ও শৃঙ্খলা কমিটি বরাবর ওই নোটিশের লিখিত জবাব দেন৷
ওই জবাব বিশ্লেষণ করে একান্ত ব্যক্তিগত যোগাযোগের এ ঘটনা নারীর প্রতি সংবেদনশীলতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে এনসিপি গভীর পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়৷ এরই পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ভিত্তিতে কারণ দর্শানোর নোটিশের নির্দেশ অনুযায়ী সারোয়ার তুষার দুই মাস সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকেন৷
সাংগঠনিক নির্দেশ অনুযায়ী দেশব্যাপী এনসিপির জুলাই পদযাত্রা, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে এনসিপিকে প্রতিনিধিত্ব করা, গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরা, নরসিংদীতে এনসিপির পদযাত্রায় অনুপস্থিত থাকাসহ দলের সব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে সারোয়ার তুষার বিরত থেকেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, সার্বিক ঘটনা, লিখিত জবাব ও আলামত বিশ্লেষণ সাপেক্ষে দুই মাস সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পর তাঁকে পুনরায় সাংগঠনিক সব কর্মকাণ্ডে পুনর্বহাল করার মাধ্যমে কারণ দর্শানোর নোটিশটি প্রত্যাহার করা হলো।
আমারবাঙলা/এফএইচ