মার্কিন সামরিক বাহিনীর বর্ণিল মহড়া এবং হোয়াইট হাউসের নতুন হেলিপ্যাড প্রস্তুত—সাজসাজ রব চারদিকে। আগামী সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার শীর্ষ বৈঠককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক জল্পনা-কল্পনা। তবে এত জাঁকজমকের মধ্যেও প্রশ্ন রয়ে গেছে, এই বৈঠকে আদৌ কতটা বাস্তব অগ্রগতি হবে?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে সর্বনাশা পরিস্থিতির আশঙ্কার মধ্যেই এ প্রযুক্তিতে আধিপত্য বিস্তারে তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ট্রাম্প ও শি’র আলোচনায় এআই নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা কিংবা এর উন্নয়নের গতি কমানোর বিষয়ে সমঝোতা গুরুত্ব পেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে বড় কোনো চুক্তি হওয়া রাজনৈতিকভাবে সম্ভব নয়।
বৈঠকে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চায় চীন। এর মধ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জন্য বেইজিং তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে বলে খবর চাউর হলেও ট্রাম্প তা খুব একটা আমলে নেননি। এছাড়া দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধ এবং ট্রাম্পের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্কের প্রভাব কমানোর বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব নেতৃত্বে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চায়, আর অন্যদিকে দ্রুত উত্থানশীল চীন ২১ শতককে নিজেদের শতকে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর। এর মাঝে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের আশঙ্কার মতো বড় ভূরাজনৈতিক ইস্যুগুলোও রয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের আগে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে তিনি চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রায় সবকিছু নিয়েই আলোচনা করবেন।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় কোনো সুনির্দিষ্ট ফল অর্জনের চেয়ে দুই নেতা হয়তো চার মাস আগে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফরের মতো আপেক্ষিক বিরতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপরই বেশি জোর দেবেন। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের জোনাথন সিন এএফপিকে বলেছেন, এই বৈঠক থেকে খুব বেশি কিছু অর্জিত হবে বলে মনে হয় না; এটি মূলত মে মাসের বেইজিং সফরেরই একটি পুনরাবৃত্তি মাত্র।
গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনার পাশাপাশি ট্রাম্প বরাবরই শক্তিশালী কোনো বিদেশি নেতার সঙ্গে বৈঠকের দৃশ্যমান আয়োজনের প্রতি বেশি আগ্রহী। শি’র সফরকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে নতুন গ্রানাইটের হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে এবং একটি জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া আগামী নভেম্বর মাসে শেনজেনে এপেক ফোরাম এবং ডিসেম্বরে মিয়ামিতে জি-২০ সম্মেলনেও দুই নেতার সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আমার বাঙলা/রাজীব