ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্তের (২৭) মৃত্যুর ঘটনায় ডিবি সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশের এক অফিস আদেশে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। একই ঘটনায় ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, ডিবি সদর জোনের ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রশাসনিক কারণে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আদেশে তাকে মঙ্গলবার দুপুর ১টার মধ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে এ আদেশ কার্যকর করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২০ জুন) বিকেলে মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, আটক করার সময় তার মায়ের সামনেই তাকে মারধর করা হয় এবং পরবর্তীতে পুলিশি নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশ দাবি করেছে, আটক হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রান্তকে প্রথমে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শনিবার (২১ জুন) সকাল ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রান্তের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সোমবার (২২ জুন) তার জানাজার আগে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রায় ৪০ মিনিট ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। পরে নিহতের পরিবারের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।
এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।
আমার বাঙলা/আরএ