“জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়।
মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির।
সভায় বক্তারা শিশুর সুস্বাস্থ্য ও সঠিক বিকাশে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নবজাতকের জন্য মায়ের দুধের বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি মাতৃদুগ্ধ পানের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাঃ দীপ সাহার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মুকসুদপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টু শরীফ, আবাসিক উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাঃ ভীষ্মদেব মন্ডলসহ উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
আলোচনা সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন তার বক্তব্যে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব ও উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, সন্তান জন্মের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোনো কারণে শিশু দুধ না পেলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে নবজাতক ও মায়েদের সুস্থতার জন্য বুকের দুধের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, শিশুর জন্মের পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের দুধ খাওয়ানো শুরু করা গেলে নবজাতকের মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ৩১ শতাংশ কমে যায়। পাশাপাশি, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের দুধ (এক ফোঁটা পানিও নয়) খাওয়ানো হলে শিশুমৃত্যুর হার আরও কমে আসে।
তিনি জানান, শিশুর জীবনের প্রথম খাবার হিসেবে ‘শালদুধ’ বা কলোস্ট্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ নয়, বরং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং প্রথম টিকার মতো কাজ করে। শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশে মায়ের দুধের বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আমার বাঙলা/ রাব্বি