ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪৪ জন। বুধবার (৫ আগস্ট) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার মধ্যরাতের পর থেকে কিয়েভে হামলা শুরু হয়। শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানান, রাশিয়া আবারও বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছে।
কিয়েভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ও গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার সময় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রাজধানীজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান তিনি।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, হামলার সময় রাশিয়া ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৪টি জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৫টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ৯৮টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্রের মজুত এবং ড্রোন উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী ওডেসা বন্দরের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী তিনটি জাহাজেও হামলা চালানোর দাবি করেছে মস্কো।
সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভে রাশিয়ার হামলা আরও বেড়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে।
এদিকে রাশিয়ার তুলা অঞ্চলের গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়েভ জানিয়েছেন, ড্রোন হামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে আগুন লাগে। এতে একজন আহত হয়েছেন। তবে ওই ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সূত্র: বিবিসি
আমার বাঙলা/ তালহা