থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়ার পর খাবারের তালিকা নির্বাচন করা এবং প্রতিদিনের সকাল বা বিকেলের নাস্তা বা স্ন্যাকস বেছে নেওয়া অনেকের জন্যই বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বিস্কুট বা চিপসের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বর্তমানে মাখানা বেশ জনপ্রিয়। থাইরয়েড রোগীদের জন্য গয়ট্রোজেনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। কাঁচা ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, সয়াবিন ও বাজরার মতো খাবারে থাকা গয়ট্রোজেন শরীরের আয়োডিন শোষণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যদিও ভালোভাবে সেদ্ধ বা রান্না করলে এগুলোর ক্ষতিকর গুণ নষ্ট হয়, তবে গয়ট্রোজেনমুক্ত খাবার বেছে নেওয়া বা সঠিক রান্নার পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। সেই দিক থেকে জলজ উদ্ভিদের বীজ থেকে তৈরি মাখানা অত্যন্ত নিরাপদ একটি খাবার।
হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজম—উভয় ক্ষেত্রেই মাখানা খাওয়া নিরাপদ, কারণ এটি গয়ট্রোজেনসমৃদ্ধ খাবারের তালিকায় পড়ে না। হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্তদের ওজন বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয় এবং ক্ষিদে পেলে ভাজাপোড়া বা মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে পরিমাপ করে মাখানা খেলে ওজন বৃদ্ধি পায় না এবং পেটও ভরপুর থাকে, কারণ এতে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ও খুব কম পরিমাণে ফ্যাট থাকে।
পুষ্টির দিক থেকেও মাখানা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে, যা শরীরের বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া অটোইমিউন থাইরয়েড সমস্যার মূল কারণ দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণেও মাখানা দারুণ কার্যকরী। মাখানায় উপস্থিত কেম্পফেরল এবং ক্লোরোজেনিক অ্যাসিডের মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকাল ধ্বংস করে থাইরয়েড গ্রন্থির কোষের প্রদাহ কমায়। এর ফাইবার অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বা প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে পেট সুস্থ রাখে।
তবে কেবল মাখানা খেলেই থাইরয়েড হরমোন তৈরি বা সক্রিয় হওয়ার প্রক্রিয়া সরাসরি বৃদ্ধি পায়, এমন কোনো প্রমাণ নেই। থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য আয়োডিন অত্যন্ত জরুরি, যার ভালো উৎস হলো আয়োডিনযুক্ত লবণ, মাছ, সামুদ্রিক খাবার, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবার। তাই শুধু মাখানার উপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা উচিত।
আমার বাঙলা/রাজীব