আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দক্ষিণ আফ্রিকায় একাধিক যানবাহনের মর্মান্তিক সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। দেশটির জাতীয় সড়ক ট্রাফিক সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আজ সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পশ্চিম কেপ প্রদেশের পরিবহন বিভাগের মুখপাত্র মুনিরা আলি জানান, স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্যস্ততম এন-১ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের খবরে বলা হয়, পশ্চিম কেপের প্রিন্স আলবার্ট ও লি-গামকা শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে, সেই ঘটনাস্থল কেপটাউন থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির সড়ক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা করপোরেশন জানিয়েছে, দুটি মিনিবাস ট্যাক্সি ও অন্য একটি যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে কর্তৃপক্ষের ধারণা, প্রথমে বিপরীতমুখী দুটি মিনিবাস ট্যাক্সির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঠিক এর পরপরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তৃতীয় একটি যান এসে ওই দুটি দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ির ওপর সজোরে আঘাত হানে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর পুলিশ ইতোমধ্যে অপরাধমূলক অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চহারে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু মোকাবিলা করে আসছে। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো, চলাচলের অনুপযোগী ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং সিট বেল্ট ব্যবহারে অনীহাকে এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দেশটির সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান গণপরিবহন মাধ্যম হলো এই মিনিবাস ট্যাক্সিগুলো, তবে প্রায়ই এগুলো ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সব দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকার সড়ক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা করপোরেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২০২৫ সালে দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১১ হাজার ৪৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। অবশ্য আগের বছরের তুলনায় সেই সংখ্যা ৫ শতাংশের বেশি কমেছিল, যার একটি বড় অংশজুড়েই ছিলেন পথচারীরা। তবে সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা দেশটিতে সড়কের নিরাপত্তা ও গণপরিবহনের শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।