বাড়িতে হঠাৎ পিঁপড়ার আনাগোনা বেড়ে গেলে তা বেশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। সাধারণত খাবার ও পানীয়ের গন্ধে পিঁপড়া আকৃষ্ট হলেও শুধু খাদ্যের কারণেই তারা ঘরে আসে না। আর্দ্র পরিবেশও তাদের টেনে আনে। এ কারণে রান্নাঘর, বাথরুম, আলমারি বা কাপড় রাখার স্থানেও পিঁপড়ার দেখা মিলতে পারে।
অনেক সময় পিঁপড়ার কামড়ে ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি কিংবা লালচে দাগ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কিছু প্রজাতির পিঁপড়ার কামড় বা হুল থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ এ ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তবে ঘরে পিঁপড়ার উপদ্রব কমাতে কয়েকটি সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।
১. ভিনেগারের স্প্রে
পিঁপড়া দূরে রাখতে সাদা ভিনেগার ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি স্প্রে বোতলে সমপরিমাণ সাদা ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে রান্নাঘরের কাউন্টার, জানালা, দরজার চৌকাঠ এবং পিঁপড়ার প্রবেশপথে স্প্রে করুন। মেঝে পরিষ্কারের পানিতেও সামান্য ভিনেগার মেশানো যেতে পারে।
২. তেজপাতা ব্যবহার
তেজপাতার তীব্র গন্ধ পিঁপড়ার জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। কয়েকটি তেজপাতা হালকা থেঁতো করে পিঁপড়ার চলাচলের পথ বা প্রবেশমুখে রেখে দিলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবারের কাছে তেজপাতা রাখা যেতে পারে।
৩. হলুদের গুঁড়া
হলুদের গন্ধও পিঁপড়াকে নির্দিষ্ট এলাকা থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। দরজা-জানালার ফাঁক কিংবা যেসব পথ দিয়ে পিঁপড়া ঘরে ঢোকে, সেখানে অল্প পরিমাণ হলুদের গুঁড়া ছিটিয়ে দিতে পারেন।
৪. শুকনো মরিচ ও লবণের স্প্রে
এক থেকে দুই গ্লাস পানিতে এক চামচ লবণ ও এক থেকে দুই চামচ শুকনো মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা হওয়ার পর মিশ্রণটি ছেঁকে স্প্রে বোতলে ভরে নিন। এরপর দেয়ালের ধারে, জানালার পাশে বা পিঁপড়ার চলাচল বেশি এমন স্থানে স্প্রে করুন।
৫. লেবুর রস
লেবুর গন্ধ পিঁপড়ার চলাচলের জন্য ব্যবহৃত ঘ্রাণের পথকে ব্যাহত করতে পারে। রান্নাঘর, জানালা বা প্রবেশপথে তাজা লেবুর রস স্প্রে করা যেতে পারে। এছাড়া দরজা বা জানালার পাশে লেবুর খোসা রাখলেও কিছুটা উপকার মিলতে পারে।
তবে শুধু পিঁপড়া তাড়ানোর উপায় ব্যবহার করলেই হবে না। খাবার খোলা অবস্থায় না রাখা, রান্নাঘর ও মেঝে পরিষ্কার রাখা এবং ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি। এরপরও যদি পিঁপড়ার উপদ্রব দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে বা বাসা তৈরি করে, তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
আমার বাঙলা/ রাব্বি