২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রায় ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি বই ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি বই ছাপানো হবে। ইবতেদায়ির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ছাপা হবে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি বই। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য ছাপানো হবে প্রায় ১৮ কোটি বই। এর মধ্যে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই রয়েছে।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ হাজার ৪ কপি ব্রেইল বইও ছাপানো হবে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ের বই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার পাঠ্যবই ছাপাতে সরকারের ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা। গত জুন থেকে ধাপে ধাপে বই ছাপানোর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই ছাপার বেশির ভাগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তবে অষ্টম ও নবম শ্রেণির বইয়ের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
এ ছাড়া প্রায় ৫০টি লটে এক কোটির বেশি বইয়ের জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বান করতে হচ্ছে। এর মধ্যে নবম শ্রেণির ১৮ থেকে ২০টি লটে প্রায় ৬০ লাখ বই রয়েছে।
তবে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, নভেম্বরের মধ্যেই বই ছাপানোর কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর ডিসেম্বরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের বই পৌঁছে দেওয়া হবে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি