উচ্চ কোলেস্টেরলকে ‘নীরব’ স্বাস্থ্যঝুঁকি বলা হয়। কারণ রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলেও অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। বিশেষ করে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বেশি হলে ধমনিতে চর্বি জমতে পারে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
জিনগত কারণ, বয়স ও কিছু শারীরিক সমস্যা কোলেস্টেরলের মাত্রাকে প্রভাবিত করলেও প্রতিদিনের জীবনযাপনও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন কিছু অভ্যাস রয়েছে, যা এক-দুবার করলে ক্ষতিকর মনে না হলেও নিয়মিত চলতে থাকলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে।
১. সকালে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া
মাখন দিয়ে তৈরি টোস্ট, ভাজাপোড়া, পরোটা কিংবা প্রক্রিয়াজাত মাংস দিয়ে দিনের শুরু করা অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু নিয়মিত স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার খেলে রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে।
মাখন, ঘি, চর্বিযুক্ত মাংস, সসেজ, পনির, ক্রিম, কেক ও পেস্ট্রিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই এসব খাবার পরিমিত খাওয়ার পাশাপাশি শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিনকে খাদ্যতালিকায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া ভালো।
২. স্বাস্থ্যকর খাবারও অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া
বাদাম, বীজ ও কিছু স্বাস্থ্যকর তেল হৃদ্স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে কোনো খাবার পুষ্টিকর হলেই তা ইচ্ছেমতো বেশি খাওয়া ঠিক নয়। অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্যকর নাস্তার পরিবর্তে নিয়মিত বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি, ভাজাপোড়া ও প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাসও কোলেস্টেরল ও সামগ্রিক হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, চিনি ও অতিরিক্ত ক্যালোরি থাকতে পারে।
৩. দিনের বেশিরভাগ সময় বসে থাকা
নিয়মিত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করলেও দিনের বাকি সময় যদি ডেস্ক, গাড়ি কিংবা সোফায় বসে কাটে, তাহলে তা শরীরের জন্য ভালো নয়। দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার অভ্যাস কোলেস্টেরলের ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে এবং এইচডিএল বা ‘ভালো’ কোলেস্টেরল বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা সিঁড়ি ব্যবহার করার মতো সহজ কাজও দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রম বাড়াতে সাহায্য করে।
দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটা, ফোনে কথা বলার সময় হাঁটাহাঁটি করা কিংবা সম্ভব হলে সিঁড়ি ব্যবহার করার অভ্যাস করা যেতে পারে।
৪. নিয়মিত চিনিযুক্ত পানীয় পান করা
সফট ড্রিংকস, মিষ্টি ফলের পানীয়, এনার্জি ড্রিংকস এবং অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা-কফিতে প্রচুর পরিমাণে বাড়তি চিনি থাকতে পারে। এসব পানীয় নিয়মিত গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ ও ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
চিনি সরাসরি কোলেস্টেরল নয়, তবে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পানীয় হিসেবে পানি বা কম চিনি দেওয়া স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া ভালো।
৫. ধূমপান ও তামাকের সংস্পর্শে থাকা
ধূমপান হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি কোলেস্টেরলের ভারসাম্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং রক্তনালির ক্ষতির মাধ্যমে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
ধূমপানের কারণে এইচডিএল বা ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যেতে পারে, ফলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই ধূমপান ছাড়ার পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপান থেকেও দূরে থাকা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখবেন: কোলেস্টেরল বেড়েছে কি না তা শুধু উপসর্গ দেখে বোঝা যায় না। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তের লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
আমার বাঙলা/ রাব্বি