সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন পাসপোর্টটি হস্তান্তর করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার অনেকে ইতোমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। তবে এখনো কয়েকজন উপদেষ্টা লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি।
স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার মিলিয়ে প্রায় ২০ জন তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা সপ্তাহখানেক আগে পাসপোর্ট ছেড়েছেন। অন্যরাও ভোটের আগে পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন।
সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, দায়িত্ব শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করতে হয়। যারা এখনো জমা দেননি, তারাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা করবেন।
লাল পাসপোর্ট জমাদানকারীদের তালিকায় প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও রয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, বাণিজ্য ও পর্যটন-সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী রয়েছেন।
এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব (বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থানরত) লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দায়িত্ব হস্তান্তরের পরপরই তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দায়িত্ব শেষ হলে কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর বাধ্যতামূলক। সে অনুযায়ী ধাপে ধাপে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।
আমারবাঙলা/এসএবি