ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করছেন, বেইজিংয়ে পৌঁছালে চীনের নেতা শি জিনপিং তাঁকে উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ অভ্যর্থনা দেবেন। তবে দুই দেশের মধ্যকার একাধিক অমীমাংসিত ও জটিল ইস্যুর কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন প্রত্যাশা পূরণ নাও হতে পারে।
তাইওয়ান, শুল্ক নীতি, বিরল খনিজ এবং ইরান যুদ্ধের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো দুই নেতার আলোচনায় স্থান পাওয়ার কথা। এমন গুরুগম্ভীর বিষয়ের পর দুই নেতা কীভাবে অনুভূতি প্রকাশ করবেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রকাশভঙ্গি থেকে আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে বৈঠকটি এমন দুই নেতার মধ্যে হতে যাচ্ছে, যাদের অনুভূতি প্রকাশের শৈলী সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়শই আড়ম্বরপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ করেন। বিপরীতে শি জিনপিংয়ের প্রকাশভঙ্গি বেশ পরিমিত ও স্বল্পভাষী।
প্রায় ৯ বছর আগের সফরে চীনে ট্রাম্পকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আপ্যায়ন করা হয়েছিল। এরমধ্যে ছিল, নিষিদ্ধ নগরীতে (ফরবিডেন সিটি) দুই নেতার একান্ত চা-চক্রের আয়োজন। এবার ট্রাম্পকে ‘টেম্পল অব হেভেন’ বা স্বর্গ মন্দির পরিদর্শনে নেওয়া হবে।
সাংহাইয়ের ফুদান ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর আমেরিকান স্টাডিজের পরিচালক উ শিনবো এএফপিকে বলেন, ট্রাম্পের প্রথম সফরের পর চীন বুঝতে পেরেছে, অতিরিক্ত তোষামোদ করলেও বেইজিংয়ের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থানে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
২০১৭ সালে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিগত কূটনীতিকে ‘বাস্তবমুখী সহযোগিতা ও শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার কূটনীতির এক নতুন অধ্যায়’ হিসেবে তুলে ধরেছিল। তবে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের বার্ট হফম্যান সোমবার এক নিউজলেটারে লিখেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চীনবিরোধী নীতি এবং দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে তীব্র বাণিজ্য যুদ্ধ বেইজিংয়ের সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রায়ই শির সঙ্গে নিজের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তবে হফম্যান লিখেছেন, বর্তমানে দুই নেতার ব্যক্তিগত রসায়নে আবেগ বেশ কম।
সম্প্রতি বেইজিং কয়েকটি দেশের সরকার প্রধানকে লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে আয়োজিত একটি সামরিক কুচকাওয়াজে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন উষ্ণ অভ্যর্থনা পান। এছাড়া, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ তাঁর সফরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন।
ট্রাম্পের এবারের সফর ঘিরে বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের অধ্যাপক জন গং বলছেন, তাঁর ধারণা ট্রাম্প ও শির মধ্যে এখনো ভালো বোঝাপড়া আছে।
দ্বিপাক্ষিক অসংখ্য তিক্ততার মাঝে দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক মূখ্য হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তাদের মধ্যে সবশেষ সরাসরি সাক্ষাত হয়েছিল গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক আঞ্চলিক সম্মেলনে। তখন তারা বাণিজ্য যুদ্ধে এক বছরের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিলেন।
এবারের আলোচনা হতে যাচ্ছে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। যা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যেকার তিক্ততায় নতুন সংযোজন। সম্প্রতি এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার একটি পডকাস্টে বলেন, এবারের বৈঠকের প্রত্যাশা পরিমিত হওয়া উচিত।
কাটলার বলেন, চলতি বছর ট্রাম্প ও শি-এর মধ্যে একাধিক বৈঠক হবে। তাই প্রথম সাক্ষাতেই বড় কোনো অর্জনের ঘোষণা নাও আসতে পারে। বরং উভয় নেতা হয়তো সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর বেশি গুরুত্ব দেবেন।
আমার বাঙলা/আরএ