সারাদেশ

এক শিক্ষকে কয়েক বছর, হুমকিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত দুরবস্থার মধ্যে পাঠদান চলছে। স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের তথ্য মতে, প্রায় ১৬০ শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়টিতে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় ভবনের ছাদ ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া পানীয় জলের টিউবওয়েল নোংরা এবং টয়লেট অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা—সব দিক থেকেই শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টির সত্যতা জানতে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আখতারুজ্জামান জানান, তিনি ৪ জুলাই ২০২৪ সালে যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে মাত্র একজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত আছেন। শিক্ষক প্রদানের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো চিঠি পাননি। তিনি বলেন, “আমাকে না জানালে তো জানতে পারব না। তারপরও বিষয়টি নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলব।”

এ বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে হোয়াটসঅ্যাপে বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে।

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমি বিষয়টি জানি না। হোয়াটসঅ্যাপে লিখে পাঠান, জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা উপ-পরিচালক মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, “একজন শিক্ষক দিয়ে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।” তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। পাশাপাশি নতুন শিক্ষক যোগদান করলে সংকট কমে যাবে বলেও মন্তব্য করেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, উপজেলায় বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অনেকেই নিয়মিত স্কুলে না গিয়েও বেতন তুলছেন। তারা দাবি করেন, সহকারী শিক্ষা অফিসার ও শিক্ষা অফিসারকে ম্যানেজ করেই এসব অনিয়ম চলছে। প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের আগে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়কে জানিয়ে দেওয়া হয়, ফলে ওইদিন সবাই উপস্থিত থাকেন। এছাড়া শিক্ষা অফিসার প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিদর্শনের সময় সাথে নিয়মিত অন্য প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক নিয়ে যান। শিক্ষা অফিসের আরো অনেক অনিয়ম রয়েছে বলে জানান।

তাদের দাবি, এসব অনিয়ম বন্ধ করা গেলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে এবং দেশ একটি শিক্ষিত জাতি গঠনের পথে এগিয়ে যাবে।

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে!

দেশের ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী...

জামগাছ থেকে পড়ে ইমন নামে এক যুবকের মৃত্যু

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা উপজেলায় জামগাছ থেকে পড়ে মো. ইমন নামের...

চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা কোম্পানিগুলোকে এশিয়ার পরবর্তী বৃহৎ অর্থনৈতিক ব...

ফরিদপুরের সালথায় কৃষি মাঠ থেকে হাত-পা কাটা মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার একটি কৃষি মাঠ সংলগ্ন সড়ক থেকে হাত-পা কাটা অবস্থায় পান...

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভের...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা