জাতীয়
বিএনপির সরকার ১ম ডিসি সম্মেলন শেষ

জেলা প্রশাসন ফের দলীয়করণের পথে

আমার বাঙলা ডেক্স

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজে অংশ গ্রহনের মাধ্যমে বিএনপির সরকার গঠনের পর প্রথম ডিসি সম্মেলন শেষ হয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করা, প্রশাসনকে আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও মব সন্ত্রাস দমনে প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার পরামর্শও পেয়েছেন ডিসিরা।

জেলা প্রশাসকদেরকে (ডিসি) স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিসি সম্মেলন শুরু হয় গত ৩ মে। চার দিনের সম্মেলনে ২৮টি কর্ম-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিন সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা।

এবারের সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা ৪৯৮টি প্রস্তাব পেশ করেন। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পৃথক কর্ম-অধিবেশনগুলোয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

সম্মেলনের প্রথম দিন রাজনীতিকদের সমন্বয়ে জেলা পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক নিয়মিত করার তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ বৈঠকের মূল লক্ষ্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়; মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির মাধ্যমে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেলা পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক হলো মামলা-মোকদ্দমার বিষয়। এখানে রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে এবং মাঠ প্রশাসন দলীয় প্রভাবে দূষিত হতে পারে। এসব বৈঠকে বাইরের লোক বিশেষত: স্থানীয় রাজনীতিবিদদের যুক্ত না করাই ভালো। সম্মেলনে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা গত কয়েক বছরের মতো এবারও বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন। তবে এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

মাঠ প্রশাসনে ভালোভাবে কাজ করতে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে– প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণপূর্বক প্রতিরোধ ও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা পরিহার করে দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়। সব উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে গুণগত মান নিশ্চিতকল্পে কার্যকর তদারকি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করতে হবে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

আমার বাঙলা/আরএ

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

নরসিংদী জেলা পরিষদে অনুদানের চেক বিতরণ

মানবিকতা আর সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো নরসিংদী জেলা পরিষদ। উ...

নিখোঁজ মায়া আক্তার (১২): উদ্ধার নেই, অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নিখোঁজের দীর্ঘ একমাস পার হলেও উদ্ধার হয়নি মায়া আক্তার (১২...

জেলা প্রশাসন ফের দলীয়করণের পথে

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্...

জেলা প্রশাসন ফের দলীয়করণের পথে

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্...

নিখোঁজ মায়া আক্তার (১২): উদ্ধার নেই, অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নিখোঁজের দীর্ঘ একমাস পার হলেও উদ্ধার হয়নি মায়া আক্তার (১২...

নরসিংদী জেলা পরিষদে অনুদানের চেক বিতরণ

মানবিকতা আর সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো নরসিংদী জেলা পরিষদ। উ...

ক্যানসার আক্রান্ত শিশু ফাহিমকে বাঁচাতে প্রয়োজন আরও ৬ লাখ টাকা

ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফাহিম আহমেদের চিকিৎসা অর্থের অভাব...

জামায়াতের ৩ নেতাকর্মীর ওপর মৌমাছির আক্রমণ, একজন সংকটাপন্ন

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় মৌমাছির আক্রমণে জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতাকর্মী আহত...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা