ইরানের সঙ্গে ওমানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনার পরিবেশ ছিল “খুব ভালো” এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আরও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা দেশটির সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা পরোক্ষভাবে আলোচনায় বসেন। একদিনব্যাপী এই আলোচনার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।
ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের বিষয়ে আমাদের আলোচনা খুব ভালো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই দুই পক্ষের মধ্যে আবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানও আলোচনার পরিবেশকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পারস্পরিক সম্মান ও সংযম বজায় রেখে আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মতি রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীসহ নৌবহর মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও মাস্কাটে আলোচনার সময় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে সরাসরি সাক্ষাতে বসেননি।
আলোচনা শেষ হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করতে জাহাজ পরিবহন খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে আলোচনার কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর—যার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে—এই প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো।
মাস্কাটে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, আলোচনা একান্তভাবে পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ ছিল। পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের এই কর্মসূচিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করলেও তেহরান বরাবরের মতোই দাবি করেছে, এটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে আরাঘচি বলেন, এই আলোচনা একটি “ভালো সূচনা” এবং এতে উভয় পক্ষের মধ্যে যুক্তি ও মতামতের বিনিময় হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হুমকি ও চাপের নীতি পরিহার করে, তাহলে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
তবে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তার “ভয়াবহ পরিণতি” হতে পারে।
আমারবাঙলা/এসএবি