২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর ব্রাজিল ফুটবলে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া। ফুটবলপ্রেমী দেশটির আলোচনার বড় অংশজুড়ে এখন নেইমার জুনিয়রের ভবিষ্যৎ। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ব্রাজিল জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন—এমন গুঞ্জনের পাশাপাশি চলছে নানা সমালোচনাও।
এই কঠিন সময়ে নেইমারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড রোনালদো নাজারিও। তিনি সমর্থক ও গণমাধ্যমকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আবেগের মুহূর্তে নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক বক্তব্যে রোনালদো বলেন, বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরপরই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তার ভাষায়, ‘এখন কাউকে চাপ দেওয়ার বা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নয়। এই মুহূর্তে কিছুই চূড়ান্ত করার দরকার নেই।’
রোনালদো আরও জানান, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ব্যর্থতার পর মানসিক চাপ কতটা কঠিন হতে পারে, তা তিনি নিজেও অনুভব করেছেন। তাই নেইমারের মানসিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রোনালদো সমর্থক ও বিশ্লেষকদের স্মরণ করিয়ে দেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আগে নেইমারকে দীর্ঘ ও কঠিন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা ভুলে যেতে পারি না যে সে একটি গুরুতর চোট থেকে ফিরেছে, যে চোট তাকে প্রায় দুই বছর মাঠের বাইরে রেখেছিল। সে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেই এই বিশ্বকাপে এসেছে।'
ফরাসি ফুটবলে দেশম যুগের অবসান: কে হবেন উত্তরসূরি, কী কী চ্যালেঞ্জ সামনে?
তার এই মন্তব্য নেইমারের দীর্ঘ ইনজুরি থেকে ফিরে এসে বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেওয়ার কঠিন যাত্রার দিকেই ইঙ্গিত করে।
২০০২ বিশ্বকাপজয়ী রোনালদোর বিশ্বাস, পর্যাপ্ত সময় নিয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারলে নেইমার আবারও ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হতে পারেন। তিনি বলেন, 'শিগগিরই সে আবার অনুপ্রাণিত হবে। আর কে জানে, হয়তো আনচেলত্তি তাকে আবারও ব্রাজিল জাতীয় দলের একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করবেন।'
এই বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে, বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনায় নেইমারের জন্য এখনও সুযোগ থাকতে পারে, যদি তিনি আবার নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেন।
রোনালদোর এই মন্তব্য, যা প্রথমে লিবের্তা দিপ্রে'র এক্স পোস্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, ইতোমধ্যেই লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহ্যামের স্টিকার ফ্রিজে রাখলেই থেমে যাবে তাদের জাদু!
এদিকে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) ও নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নজর রাখছে বিশ্বের বড় বড় সংবাদমাধ্যম। অনেক বিশ্লেষকই প্রশ্ন তুলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর ইনজুরি ও শারীরিক ধকল কাটিয়ে নেইমার কি জাতীয় দলের হয়ে আরেকবার বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন?
সমর্থকদের একাংশ যেখানে নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার পক্ষে, অন্যরা এখনও নেইমারের অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রাখছেন।
এদিকে নেইমার বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে উঠতে নিজের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন। তবে রোনালদোর মতো কিংবদন্তির সমর্থন এবং ব্রাজিল কোচিং স্টাফের নজর থাকায়, জাতীয় দলে তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
আমার বাঙলা/ রাব্বি