খেলা

দারিদ্র্য সত্বেও আশিকের স্বপ্ন ফুটবলার হওয়া

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

এক হাতে সংসারের কঠিন বাস্তবতা, অন্য হাতে স্বপ্ন বুনেছে এক কিশোর ফুটবলার। যে বয়সে হাতে থাকার কথা বই-খাতা, সেই বয়সে হোটেল-রেস্তোরাঁয় কাজ করে সে। বলছিলাম কুষ্টিয়ার বাবা-মা হারা শিশু আশিকের কথা। দারিদ্র্যের সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করে একজন বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে ছুটে চলেছে সে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কোট স্টেশন এলাকার সুখ নগর বস্তি। ১২ বছর আগে এখানে বসবাস করতেন আশিকের বাবা-মা। কিন্তু আশিকের জন্মের পরই পারিবারিক ভাঙনে ন্যূনতম আদর-যত্ন থেকেও বঞ্চিত হয় সে। বাবা-মা তাকে ছেড়ে চলে গেলে আশ্রয় হয় নানার কাছে। অভাবের তাড়নায় আশিকের বয়স যখন মাত্র ৮ বছর, তখন পড়ালেখা বাদ দিয়ে তাকে কাজে নেমে পড়তে হয়। নানার সহায়তায় বেছে নেয় স্থানীয় এক খাবার হোটেলের কাজ। কিন্তু কষ্টের এই জীবনেও আশিকের মনে ছিল অন্য এক জগত। হোটেলের কাজ শেষ করেই বিকেলে তার একমাত্র নেশা হয়ে ওঠে ফুটবল। তার খেলার নৈপুণ্য দেখে মুগ্ধ হন স্থানীয়রা। অভাব আর হোটেলের ক্লান্তিকে উপেক্ষা করেই সে নিয়মিত ছুটে যায় মাঠে, অংশ নেয় খেলায়। আশিকের এই স্বপ্ন পূরণ হবে কি না— তা নিয়ে সংশয় থাকলেও, তার জেদ আর ফুটবল খেলার প্রতি ভালোবাসা মুগ্ধ করেছে সবাইকে।
এ বিষয়ে আশিকের নানা মন্ডল জানান জন্মের পর আশিকের বাবা নেশাগ্রস্থে আসক্ত হন। পরে আশিকের মা তাকে ডিভোস দেন। এরপর চাকুরী উদ্দেশ্যে ঢাকায় চলে যায় আশিকের মা। এরপর থেকে আশিকের সকল দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন। মাঝে স্কুল ও মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে সেটি আর বেশিদুর যায়নি। পরে স্থানীয় এক খাবার হোটেলে কাজে দিয়ে দিই। তবে তার নাতী ছেলে খেলার বেশ মনোযোগী এবং সবার চেয়ে একটু ভালো করে খেলার চেষ্টা করে। খেলার বিষয়ে আশিককে কেউ সহযোগিতা করলে হয়তবা কুষ্টিয়াবাসী একজন ভালমানের ফুটবলার পেতে পারে।
হোটেলের মালিক স্বপন বলেন ছোট থেকে আশিকের নানা তার কাছে রেখে যান। এরপর থেকে আশিক কে সাথে করে বাড়ী নিয়ে যান এবং তার দোকান দেখাশোনার জন্য রেখে দেন। আশিকের খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার কারণে বাংলাদেশ ফুটবল একাডেমিতে ভর্তি করে দিয়েছেন। কাজ শেষে খেলতে চলে যায় আশিক।
এখন স্থানীয়দের একটাই দাবি, আশিকের পাশে দাঁড়াক সমাজের বিত্তবানরা। কারণ, একটু সুযোগ পেলে এই আশিকই হয়তো একদিন দেশের জন্য বয়ে আনবে গৌরব। কষ্ট আর দারিদ্র্য হয়তো আশিকের জীবনকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তার ফুটবল খেলার স্বপ্ন এখনো জীবন্ত। এই কিশোরের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সমাজের সহযোগিতা পেলে হয়তো আলোর মুখ দেখবে কুষ্টিয়ার এই ক্ষুদে ফুটবলার।

আমার বাঙলা/আরএ

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

চরের পথে ঘোড়ার জাহাজ,  চরের মানুষের নিরব সংগ্রাম

‎ভোরের কুয়াশা তখনও কাটেনি। তিস্তার বিস্তীর্ণ বালুচরের ওপর দিয়ে একটি ঘোড...

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর বিএনপি অফিসে ককটেল আহত ৩

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ...

বালাইরমা খাসিয়া পুঞ্জিতে এমপি শওকতুল ইসলাম শকুকে সংবর্ধনা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বালাইরমা খাসিয়া পুঞ্জিতে এক বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর...

দ্রুতগতিতে বাইক চালনোয় কথা কাটাকাটি,

সিরাজগঞ্জে দ্রুতগতিতে বাইক চালনোয় কথা কাটাকাটির ঘটনায় ‘সমবয়সী বন্ধুর...

গরম আর শুধু গরম নয়, এটি এক নীরব জাতীয় বিপর্যয়

মোঃ শামীম মিয়া: বাংলাদেশের সামনে জলবায়ুর ভয়ংকর ভবিষ্যৎ জ্যৈষ্ঠের গরম বাংলাদেশ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা