প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ও নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য গ্রিড ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রিডে কোনো ধরনের ত্রুটি বা বিদ্যুৎ সঞ্চালনে বিঘ্ন যাতে না ঘটে, সে লক্ষ্যে পিডিবি, পিজিসিবিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকার সমন্বয় করে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জের আরও একটি ৪০০ কেভি অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে এসব অবকাঠামোর বেশিরভাগের কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। তবে রূপপুরের পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য আরও কিছু প্রস্তুতি ও কারিগরি সক্ষমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে দেশের জাতীয় গ্রিডের বর্তমান ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করা না গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তিনি জানান, জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ ও বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও কারিগরি প্রস্তুতির কাজও চলছে।
এদিকে রূপপুরের উৎপাদিত বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হলে বিদ্যুৎ কেনার জন্য পিডিবির সঙ্গে পৃথক চুক্তি করা হবে। প্রকল্পের শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্য ৩ থেকে ৪ টাকা ধরা হলেও প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেই হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশ কিছু অর্থ পরিশোধ এখনো বকেয়া রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় অর্থ পরিশোধে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত আর্থিক চ্যানেল ব্যবহার করতে না পারায় বাংলাদেশকে এসব অর্থ পরিশোধে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এর ফলে রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ নির্ধারিত গতিতে এগোচ্ছে কি না, সে বিষয়েও এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।
আমার বাঙলা/ রাব্বি